Skip to main content

Ridge Bangla

চার দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান, বিলুপ্তি ঘোষণা পিকেকে’র

তুরস্কে কুর্দিদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবিতে চার দশক ধরে চলা সশস্ত্র আন্দোলনের অবসান ঘটিয়েছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। সোমবার (১২ মে) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বিলুপ্ত ঘোষণা করে। কুর্দি-সমর্থিত বার্তা সংস্থা ফিরাত নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্থগিত করছি। তুর্কি-কুর্দি সম্পর্ককে এখন নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে।” পিকেকে আরও জানায়, এখন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কুর্দিদের জাতীয় পরিচয় গঠনের দায়িত্ব কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হলো।

তুরস্ক সরকার এখনো এ ঘোষণার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পিকেকে’র এ সিদ্ধান্ত তুরস্ক-ইরাক সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ পুরো অঞ্চলে চলমান দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানবে। সংগঠনটির সশস্ত্র লড়াইয়ে গত চার দশকে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

উল্লেখ্য, পিকেকে ১৯৮৪ সালে তুরস্কে কুর্দিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। সংগঠনটি তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রয়েছে। এর প্রধান নেতা আবদুল্লাহ ওজালান ১৯৯৯ সাল থেকে তুরস্কে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে কারাবন্দি আছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সংগঠন ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, আর তারই ধারাবাহিকতায় এ ঘোষণা এলো।

যদিও কুর্দিরা ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও তুরস্কজুড়ে ছড়িয়ে থাকলেও এখনো একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক কুর্দিদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চালিয়েছে এবং সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে পিকেকে’র বিলুপ্তির মাধ্যমে তুর্কি-কুর্দি সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন।

This post was viewed: 72

আরো পড়ুন