দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে কঠোর অবস্থান না নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে আয়োজিত এক ছাত্র বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, মানহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে নয়ডায় একটি জিরো এফআইআর করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ দেখেছে। তিনি বলেন, সভ্য সমাজে এমন ভাষার কোনো স্থান নেই। তাঁকে এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে কটূক্তি করা হলেও প্রতিশোধ বা বিদ্বেষ কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তরুণ বয়সে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। সেই ভুলের জন্য শুধু আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। বরং তাদের বোঝানো, সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা এবং সমাজের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করতে চান।
অন্যদিকে বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষা অনভিপ্রেত হয়ে থাকলে তা নিয়ে দেওয়ানি বা ব্যক্তিগত মানহানির আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তবে সাধারণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং প্রশাসনিক কঠোরতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।