২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক এড়াতে ভিএআর ব্যবহারের নিয়ম আরও স্পষ্ট করেছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আইএফএবি এ তথ্য জানায়।
কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ওই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের ৭২তম মিনিটে স্কোর ছিল ১-১। এ সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে মাটিতে পড়ে যান সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো। প্রথমে রেফারি জোয়াও পিনহেইরো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে ভিএআরের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি। রিপ্লে দেখে পারেদেসের কার্ড বাতিল করা হয় এবং অভিনয়ের অভিযোগে এম্বোলোকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়। এটি ছিল তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড, ফলে তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।
এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শুধু সুইজারল্যান্ডই নয়, আর্জেন্টিনার আগের প্রতিপক্ষ মিসরও অভিযোগ তোলে যে, লিওনেল মেসির দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে।
তবে সর্বশেষ ব্যাখ্যায় আইএফএবি জানিয়েছে, বর্তমান ভিএআর প্রটোকল অনুযায়ী ‘ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো’ সংশোধনের ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় অপরাধ করেছেন কি না বা হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য এই বিধান ব্যবহার করার সুযোগ নেই। ফলে এম্বোলোর ঘটনায় যেভাবে ভিএআর ব্যবহার করা হয়েছে, তা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং আইনের ভুল ব্যাখ্যার কারণে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আইএফএবি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অভিনয়ের ঘটনায় ‘ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ’ ধারা প্রয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তাই বিষয়টি ভিএআর প্রটোকলের চলমান পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনায় এই বিধান ব্যবহার করা যাবে না।
ম্যাচের পর সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেছিলেন, রেফারি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, রেফারিকে হয়তো রক্ষা করা হবে, কিন্তু এই নিয়মই তাদের ম্যাচ নষ্ট করেছে এবং এমনভাবে বিদায় নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
এদিকে, আইএফএবির ব্যাখ্যাকে স্বাগত জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা। নতুন মৌসুম শুরুর আগে সদস্য দেশগুলোর রেফারি প্রধানদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্থাটি জানায়, ভিএআরের উদ্দেশ্য রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্ত নতুন করে মূল্যায়ন করা নয়। কেবল স্পষ্ট ও গুরুতর ভুল কিংবা রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া ঘটনায়ই ভিএআরের হস্তক্ষেপ হওয়া উচিত।
একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ভিডিও পর্যালোচনা কমিয়ে মাঠের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে উয়েফা। আইএফএবির সর্বশেষ ব্যাখ্যার পর ভবিষ্যতে ভিএআর ব্যবহারে আরও কঠোর ও সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।