Skip to main content

Ridge Bangla

তরুণরা ঐক্যবদ্ধ হলে বড় পরিবর্তন সম্ভব, ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যে সতর্কবার্তা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বলেছেন, দেশের হতাশ তরুণরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। ভারতের তরুণদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলা হোক বা অন্য যেকোনো নামে ডাকা হোক, তারা একত্রিত হলে ‘সবকিছু উল্টে দিতে পারে’।

বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ইকোনমিক সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে নকভি দেশের শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়।

নকভির ভাষায়, ‘আমরা যে ব্যবস্থার অধীনে বসবাস করছি, তা ভেঙে পড়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ কোনো অনুদান চায় না। তারা এমন একটি ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যেখানে যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো—আমরা যেন ন্যায়বিচার পাই, যোগ্যতার জয় হয় এবং আমাদের কাজের সুযোগ তৈরি হয়।’

কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন এবং স্থানীয় সরকারকে আরও ক্ষমতাবান করার প্রস্তাব দেন। তার মতে, ব্যাপক সংস্কার না হলে আগামী ১০ বছর পরও পাকিস্তানকে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।

তরুণদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ভারতের আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘এখন, আপনি সেই তরুণকে যুবক বলুন, তেলাপোকা বলুন বা অন্য যেকোনো কিছুই বলুন না কেন; এই তেলাপোকারা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে তারা সবকিছু উল্টে দিতে পারে।’

পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, রাজনৈতিক বিভাজন এবং বেলুচিস্তান, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় চলমান সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নকভি বলেন, গত কয়েক বছরে শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশে তরুণদের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে, গত মাসে ভারতের তরুণদের আন্দোলনও দেশটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সমস্যাগুলো শুধু সামরিক নেতৃত্বের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা যতক্ষণ না দেশের ব্যবস্থা ঠিক করছেন, ততক্ষণ ফিল্ড মার্শালের কঠোর পরিশ্রম কোনো উপকারে আসবে না।’

তিনি আরও বলেন, আসিম মুনির সবসময় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

This post was viewed: 2

আরো পড়ুন