বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে ভারতের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভিসা প্রক্রিয়ায় থাকা সীমাবদ্ধতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংসদীয় কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে ভারত সরকারের নেওয়া পদক্ষেপসংবলিত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিদের ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কমে যাওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও ইতিবাচক ধারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।
সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করবে।
এ ছাড়া ভিসানীতি নিয়মিত পর্যালোচনা, আবেদনকারীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বৈধ ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় কনস্যুলার সহযোগিতা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও সুপারিশ করা হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশটিতে ভিসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করা হয়। একই সময়ে কনস্যুলার কর্মীদের একটি অংশও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বর্তমানে বাংলাদেশের ৫টি ভিসা কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই চিকিৎসাসংক্রান্ত ভিসা।