১৯৪৭ সালের ১৫ জানুয়ারির সকালবেলা। লস অ্যাঞ্জেলেসের সাউথ নর্টন অ্যাভিনিউয়ের এক ফাঁকা জমির পাশ দিয়ে নিজের ছোট মেয়েকে নিয়ে হাঁটছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বেটি বারসিঙ্গার। দূর থেকে সাদা কিছু একটা পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল, হয়তো দোকানের কোনো ম্যানিকুইন ফেলে গেছে কেউ। কাছে গিয়ে ভুলটা ভাংতে খুব বেশি সময় লাগেনি।
সেখানে এক তরুণীর নগ্ন মৃতদেহ পড়ে ছিল। কোমরের কাছ থেকে দেহটি দুই ভাগ করা। শরীর এতটাই ফ্যাকাশে এবং পরিষ্কার যে আশপাশে রক্তের চিহ্ন প্রায় ছিলই না। হত্যাকারী কেবল একজন মানুষকে খুন করেনি, মৃতদেহটিকেও এমনভাবে রেখে গেছে যেন সেটি খুঁজে পাওয়া যায়, সবাই দেখে এবং পুরো শহর শিউরে ওঠে!
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই তরুণীর পরিচয় বেরিয়ে আসে; নাম এলিজাবেথ শর্ট, বয়স মাত্র ২২ বছর। কিছুদিনের মধ্যেই তার নিজের নামকে ছাপিয়ে যায় সংবাদপত্রের দেওয়া আরেকটি নাম- ব্ল্যাক ডালিয়া।
প্রায় আট দশক পরও সেই নাম আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে উচ্চারিত হয়। শত শত মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, অসংখ্য ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন, চিকিৎসক থেকে নাইটক্লাব মালিক পর্যন্ত বহু মানুষ সন্দেহভাজনের তালিকায় উঠেছেন। কিন্তু এলিজাবেথ শর্টকে কে হত্যা করেছিল, তার নির্ভরযোগ্য উত্তর আজও পাওয়া যায়নি।
‘ব্ল্যাক ডালিয়া’ হওয়ার আগে তিনি ছিলেন ‘এলিজাবেথ শর্ট’
এলিজাবেথ শর্টের জন্ম ১৯২৪ সালের ২৯ জুলাই, ম্যাসাচুসেটসে। পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছে তিনি বেটি বা বেথ নামে পরিচিত ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন। কখনো আত্মীয়ের কাছে, কখনো বন্ধুর বাসায়, কখনো পরিচিত কারও সাহায্যে থাকতেন তিনি।
বহু দিন ধরে তাকে ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী অভিনেত্রী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি হলিউডে কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন- এমন বর্ণনাও ব্যাপকভাবে প্রচলিত। তবে তার কোনো পরিচিত চলচ্চিত্রে অভিনয়ের রেকর্ড পাওয়া যায় না। ২০২৬ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম জে. ম্যানের বই নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়- পরিচিতদের কেউ বলেছিলেন, শর্ট মডেল হতে চেয়েছিলেন; কেউ বলেছিলেন অভিনেত্রী।
শর্টকে পরবর্তী সময়ের অনেক লেখায় এমন এক নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে সুবিধা নিতেন কিংবা বিপজ্জনক জীবনযাপন করতেন। যুদ্ধোত্তর আমেরিকার সামাজিক মানদণ্ডে একা ঘুরে বেড়ানো, চাকরি ও থাকার জায়গা বদলানো কিংবা পুরুষ বন্ধু থাকা একজন তরুণীর চরিত্র বিচার করার জন্য যথেষ্ট ছিল। হত্যার পর সংবাদমাধ্যম সেই সুযোগটাই ব্যাপকভাবে নিয়েছিল।
শর্টের ঘনিষ্ঠ এক সামরিক পাইলট, ম্যাট গর্ডন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। পরবর্তী সময়ে শর্টের জীবন আরও অস্থির হয়ে ওঠে বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়। ১৯৪৬ সালের শেষ দিকে তিনি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন জায়গায় থাকছিলেন।
ছয় দিনের এক অন্ধকার ফাঁক
শর্টের শেষ দিককার পরিচিতদের একজন ছিলেন রবার্ট ‘রেড’ ম্যানলি নামের একজন সেলসম্যান। ১৯৪৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি শর্টকে সান ডিয়েগো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিয়ে আসেন। পথে শর্টের লাগেজ গ্রেহাউন্ড বাস ডিপোতে রাখা হয়। পরে ম্যানলি তাকে বিল্টমোর হোটেলে নামিয়ে দেন। ম্যানলি পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। তার গাড়ি পরীক্ষা করা হয়, গতিবিধিও যাচাই করা হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে হত্যার সঙ্গে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
৯ জানুয়ারির পর এলিজাবেথ শর্টের গতিবিধি নিয়ে প্রচুর কাহিনি তৈরি হয়েছে। কেউ দাবি করেছেন তাকে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ বা বারে দেখেছেন, কেউ বলেছেন তাকে অন্য এলাকায় দেখা গেছে। কিন্তু এসবের অনেকগুলোই পরে যাচাই করে নিশ্চিত করা যায়নি বা অন্য নারীর সঙ্গে তাকে মিলিয়ে ফেলা হয়েছিল বলে ধরা পড়ে।
তারপর আসে ১৫ জানুয়ারি। সকালবেলা সাউথ নর্টন অ্যাভিনিউয়ের ফাঁকা জমিতে পাওয়া যায় তার মৃতদেহ। ঘটনাস্থলে রক্ত না থাকার বিষয়টি তদন্তকারীদের দ্রুতই ধারণা দেয় যে শর্টকে সেখানে হত্যা করা হয়নি। অন্য কোথাও হত্যার পর দেহ পরিষ্কার করে এনে ফেলে রাখা হয়েছিল।
পোস্টমর্টেমে দেখা যায়, তার মুখ ও মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল। মুখের দুই পাশেও গভীর ক্ষত তৈরি করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে মুখের ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ এবং মাথা ও মুখে আঘাতজনিত শকের কথা উল্লেখ করা হয়। কোমর থেকে দেহ বিচ্ছিন্ন করার কাজটি মৃত্যুর পর করা হয়েছিল বলে পোস্টমর্টেমের বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ আছে।
হত্যাকারী যে মৃতদেহের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিল এবং সেটিকে ঘটনাস্থলে রাখার আগে প্রস্তুত করেছিল, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা শুরু থেকেই গুরুত্ব দেন। দেহ কাটার ধরন দেখে চিকিৎসা বা অ্যানাটমি সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন কারও সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়। এফবিআইয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, এই কারণেই ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিক্যাল স্কুলের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিষয়েও অনুসন্ধান হয়েছিল।
৫৬ মিনিটে পরিচয়, তারপর শুরু এক বিশাল তদন্ত
তৎকালীন হিসেবে তদন্তের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশগুলোর একটি ছিল মৃতদেহ শনাক্ত করার গতি। এফবিআই জানায়, লস অ্যাঞ্জেলস থেকে শর্টের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ‘সাউন্ডফটো’ নামে একধরনের ছবি পাঠানোর প্রযুক্তিতে পাঠানো হয়েছিল। সেটি পাওয়ার মাত্র ৫৬ মিনিটের মধ্যে এফবিআই মৃত তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত করে। কারণ শর্টের ফিঙ্গারপ্রিন্ট আগেই সরকারি রেকর্ডে ছিল। ১৯৪৩ সালে একটি সামরিক স্থাপনায় চাকরির আবেদনের সময় একবার এবং একই বছর অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মদ্যপানের ঘটনায় সান্তা বারবারা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর আরেকবার তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছিল।
কেসটি পরিচালনা করছিল লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, এফবিআই সহযোগিতা করছিল। শর্টের বন্ধু, পরিচিত, পুরুষ সঙ্গী এবং তার ঠিকানার খাতায় থাকা মানুষের সন্ধান করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্দেহভাজনদের বিষয়ে রেকর্ড পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার নেয় এফবিআই।
এর মধ্যেই তদন্তকে আরও নাটকীয় করে দেয় রহস্যময় এক প্যাকেট। ২৪ জানুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসের সংবাদপত্রের উদ্দেশে একটি খাম আসে। সেখানে এলিজাবেথ শর্টের জন্মসনদ, সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড, ছবি, বিভিন্ন কাগজপত্র এবং একটি অ্যাড্রেস বুক ছিল। খামের গায়ে সংবাদপত্র থেকে কেটে নেওয়া অক্ষর দিয়ে লেখা হয়েছিল যে এগুলো ‘ডালিয়া’র জিনিসপত্র, পরে চিঠি আসবে।
পুলিশের রেকর্ডে প্রেরককে হত্যাকারী বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। জিনিসগুলোতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট খোঁজার চেষ্টা হয়। এফবিআইও একটি সম্ভাব্য চিঠিতে পাওয়া ছাপ নিজেদের রেকর্ডের সঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করে, কিন্তু কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
তদন্তের সঙ্গে শুরু হলো মিডিয়া সার্কাস
এলিজাবেথ শর্ট জীবদ্দশায় নিজেকে ‘ব্ল্যাক ডালিয়া’ বলে পরিচয় দিতেন, এমন প্রমাণ নেই। ডাকনামটি মৃত্যুর পর সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়। ধারণা করা হয়, তার কালো পোশাক পরার অভ্যাস এবং আগের বছর মুক্তি পাওয়া সিনেমা দ্য ব্লু ডালিয়া নামটির পেছনে প্রভাব ফেলেছিল।
হত্যার পর সংবাদপত্রগুলো শর্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন সব বর্ণনা ছাপতে থাকে, যার অনেকটাই ছিল অনুমাননির্ভর বা অতিরঞ্জিত। তাকে যৌনভাবে বেপরোয়া, পুরুষনির্ভর কিংবা ‘সমস্যাগ্রস্ত’ নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তী দশকগুলোতে সেই চিত্র এতবার তুলে ধরা হয়েছে যে বাস্তব এলিজাবেথ শর্ট কোথায় শেষ হয়েছেন এবং ‘ব্ল্যাক ডালিয়া’ চরিত্রটি কোথায় শুরু হয়েছে, তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
২০২৬ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম জে. ম্যানের ‘ব্ল্যাক ডালিয়া: মার্ডার, মনস্টার্স অ্যান্ড ম্যাডনেস ইন মিডসেঞ্চুরি হলিউড’ বইটির বড় অংশই এই জায়গায় নতুন করে নজর দিয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস ও অন্যান্য পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ম্যান হত্যাকারী খোঁজার পাশাপাশি শর্টকে একজন মানুষ হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। কারণ বহু দশকের ট্রু-ক্রাইম সংস্কৃতি তার জীবনকে প্রায় মুছে দিয়ে শুধু তার মৃত্যুকেই সামনে রেখেছে।
সন্দেহভাজন অনেক, প্রমাণ অপর্যাপ্ত
ব্ল্যাক ডালিয়া কেসের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সেখানে সন্দেহভাজন এত বেশি যে কেসটি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন গল্পে পরিণত হয়েছে। রবার্ট ম্যানলি শুরুতেই সন্দেহের মুখে পড়েছিলেন, কারণ তিনিই শর্টকে লস অ্যাঞ্জেলসে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তার সময়সূচি যাচাই করে পুলিশ তাকে বাদ দেয়।
মার্ক হ্যানসেন নামের একজন নাইটক্লাব মালিকের নামও আলোচনায় এসেছে। শর্ট তার পরিচিত ছিলেন এবং কিছু সময় তার বাড়িতে থেকেছিলেন। রহস্যময় প্যাকেটে পাওয়া অ্যাড্রেস বুকেও হ্যানসেনের নাম ছিল। তার বিষয়ে তদন্ত করা হলেও এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা হত্যার অভিযোগ আনার জন্য যথেষ্ট।
পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি হয়ে ওঠেন চিকিৎসক জর্জ হোডেল। তার ছেলে, সাবেক এলএপিডি গোয়েন্দা স্টিভ হোডেল, নিজের বাবাকে হত্যাকারী বলে দাবি করেন। জর্জ হোডেলের চিকিৎসাজ্ঞান এবং বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক তথ্য সেই তত্ত্বকে জনপ্রিয় করে। পুলিশ একসময় হোডেলের বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তও করেছিল। কিন্তু তাকে কখনো শর্ট হত্যায় অভিযুক্ত করা হয়নি।
আরেক তত্ত্বে লেসলি ডিলন নামের সাবেক মরচুয়ারি কর্মী ও বেলহপকে হত্যাকারী বলা হয়েছে। তাকেও একসময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। কিন্তু সেখানেও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
এসব তত্ত্বের পাশাপাশি কেসটির আরেক অদ্ভুত দিক ছিল ‘স্বীকারোক্তির বন্যা’। টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের পর বছর অসংখ্য মানুষ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তাদের বড় অংশকে দ্রুতই বাদ দেওয়া হয়েছিল, কারণ তথ্য বা সময়সূচি বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিলছিল না।
২০২৬ সালে আবার নতুন ফিঙ্গারপ্রিন্টের আলোচনা
প্রায় ৮০ বছর পরও কেসটি পুরোপুরি ইতিহাস হয়ে যায়নি। ২০২৬ সালের আগস্টে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এ অ্যান্ড ই জানায়, এলএপিডির এক কোল্ড কেস ইনভেস্টিগেটর ১৯৪৩ সালের একটি পুরনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্ড নিয়ে নতুন তথ্য খতিয়ে দেখছেন। কার্ডটি মারভিন মার্গোলিস নামের এক ব্যক্তির বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্গোলিস ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধফেরত এক তরুণ এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রি-মেডিক্যাল শিক্ষার্থী। তিনি শর্টের পরিচিত ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তকারীদের নজরেও এসেছিলেন। নতুন করে পাওয়া ফিঙ্গারপ্রিন্ট কার্ডটি অনুসন্ধানকারী অ্যালেক্স বেবার সামনে আনেন।
হয়তো প্রকৃত সত্য আর কখনোই জানা যাবে না…
আধুনিক কোল্ড কেস সমাধানের সবচেয়ে বড় অস্ত্রগুলোর একটি হলো ডিএনএ। বহুদিন আগের অপরাধও এখন জেনেটিক জিনিয়োলজি ব্যবহার করে সমাধান হচ্ছে। কিন্তু ব্ল্যাক ডালিয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা অন্য জায়গায়। ঘটনাটি এত পুরনো যে প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের প্রায় সবাই মারা গেছেন। প্রমাণের সংরক্ষণও এমন সময়ে হয়েছিল, যখন আজকের ডিএনএ প্রযুক্তির কথা কেউ কল্পনাই করেনি। হত্যার পর সংবাদমাধ্যম, পুলিশ, কৌতূহলী মানুষ এবং অসংখ্য ভুয়া সূত্রের ভিড়ে কেসটির তথ্যও জটিল হয়ে গেছে।
মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এ অ্যান্ড ই-কে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় কেসটির সমাধানের সম্ভাবনা এখন খুবই কম। নতুন কোনো ক্লু, পারিবারিক স্বীকারোক্তি, পুরনো ডায়েরি বা পরীক্ষাযোগ্য ফরেনসিক প্রমাণ সামনে এলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। কিন্তু কেবল পুরনো সন্দেহভাজনকে ঘিরে নতুন তত্ত্ব বানিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না।
ফিচার ইমেজ: Ridge Bangla Graphics
রেফারেন্স
- Black Dahlia – Federal Bureau of Investigation
- Who Killed the Black Dahlia? – December 18, 2015; updated May 27, 2025 – HISTORY
- Black Dahlia Murder Case Hits 68 Years Unsolved – January 15, 2015; updated December 13, 2023 – TIME
- Can Fingerprints from 1943 Solve the Black Dahlia Murder? – August 12, 2026
- He’s challenging decades of victim-blaming the ‘Black Dahlia’ – January 26, 2026 – Los Angeles Times
- The Black Dahlia mystery: Wild theories and a long-overlooked suspect – October 23, 2024 – Los Angeles Times
- The curious, unsolved mystery of “The Black Dahlia” – September 18, 2026 – Salon