Skip to main content

Ridge Bangla

দ্য লস্ট কলোনি অব রোয়ানোকে: ১১৭ জন মানুষের নিখোঁজ-রহস্য

১৫৯০ সালের ১৮ আগস্ট। প্রায় তিন বছর পর রোয়ানোকে দ্বীপে পা রাখলেন জন হোয়াইট। এই দ্বীপেই রেখে গিয়েছিলেন নিজের মেয়ে এলিনর, জামাতা অ্যানানিয়াস ডেয়ার, সদ্যোজাত নাতনি ভার্জিনিয়া ডেয়ার এবং আরও শতাধিক ইংরেজ বসতি স্থাপনকারীকে। তাঁর আশা ছিল- এতদিন পর হয়তো উপনিবেশটি বড় হয়েছে, নতুন ঘর উঠেছে, ক্ষেতখামার তৈরি হয়েছে। অন্তত পরিবারের কাউকে তো দেখা যাবে।

কিন্তু সেখানে কোনো মানুষ ছিল না!

যেসব বাড়িতে বসতি স্থাপনকারীরা থাকতেন, সেগুলো খুলে ফেলা হয়েছে। চারপাশে তৈরি হয়েছে কাঠের উঁচু প্রতিরক্ষাবেষ্টনী। একটি গাছে খোদাই করা ছিল তিনটি অক্ষর- “CRO”। আর একটি কাঠের খুঁটিতে স্পষ্টভাবে লেখা- “CROATOAN”। কিন্তু কোথাও মৃতদেহ নেই, যুদ্ধের চিহ্ন নেই, আতঙ্কে পালানোর সুস্পষ্ট প্রমাণও নেই!

এরপর চার শতাব্দীর বেশি সময় ধরে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে: রোয়ানোকে উপনিবেশের ১১৭ জন মানুষের কী হয়েছিল?

তারা কি দুর্ভিক্ষে মারা গিয়েছিল? কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী তাদের হত্যা করেছিল? স্প্যানিশরা আক্রমণ করেছিল? নাকি তারা আসলে কখনোই রহস্যজনকভাবে ‘উধাও’ হয়নি, বরং রোয়ানোকে ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছিল?

যে উপনিবেশের গন্তব্য রোয়ানোকে ছিলই না!

রোয়ানোকে রহস্য বুঝতে হলে ১৫৮৭ সালেরও আগে যেতে হয়। ইংল্যান্ড তখন স্পেনের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। উত্তর আমেরিকায় একটি স্থায়ী ইংরেজ ঘাঁটি গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন স্যার ওয়াল্টার র‍্যালি। ১৫৮৪ সালে তাঁর উদ্যোগে বর্তমান নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূল পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরের বছর রালফ লেনের নেতৃত্বে রোয়ানোকে দ্বীপে একটি সামরিক উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালায় ইংরেজরা।

প্রথমদিকে স্থানীয় অ্যালগনকুইয়ান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকলেও তা দ্রুত অবনতির দিকে যায়। খাদ্যের জন্য স্থানীয়দের ওপর ইংরেজদের নির্ভরতা, রোগের বিস্তার এবং পারস্পরিক সন্দেহ পরিস্থিতিকে সহিংস করে তোলে। ১৫৮৬ সালের জুনে ইংরেজরা স্থানীয় নেতাকে হত্যা করে। কিছুদিন পর রালফ লেনের উপনিবেশও পরিত্যক্ত হয়।

এই ব্যর্থতার পর র‍্যালি দ্বিতীয়বার চেষ্টা করেন। এবার পরিকল্পনা ছিল সামরিক ঘাঁটির বদলে পরিবারসহ একটি কৃষিভিত্তিক স্থায়ী বসতি গড়ে তোলা।

lost colony of roanoke mystery
Image source: The collector

১৫৮৭ সালের অভিযানে ছিলেন ১১৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশু। গভর্নর ছিলেন চিত্রশিল্পী ও মানচিত্রকার জন হোয়াইট। তাদের আসল গন্তব্য রোয়ানোকে ছিল না, বরং সেটা ছিল আরও উত্তরের চেসাপিক বে। রোয়ানোকে দ্বীপে থামার কথা ছিল আগের অভিযানের কয়েকজন ইংরেজ সৈন্যকে খুঁজে বের করার জন্য।

কিন্তু ২২ জুলাই রোয়ানোকে পৌঁছানোর পর জাহাজবহরের পাইলট সাইমন ফার্নান্দেস বসতি স্থাপনকারীদের আর উত্তরে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে বাধ্য হয়েই আগের পরিত্যক্ত বসতির জায়গায় নতুন জীবন শুরু করতে হয় তাদের।

আগের উপনিবেশের রেখে যাওয়া ইংরেজদের মধ্যে কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি। কিছুদিন পর নতুন বসতি স্থাপনকারী জর্জ হাও স্থানীয়দের হামলায় নিহত হন। প্রতিশোধ নিতে গিয়ে হোয়াইটের লোকেরা ভুল করে বন্ধুভাবাপন্ন ক্রোয়াটোয়ানদেরই আক্রমণ করে বসে। ম্যানটিও নামে ক্রোয়াটোয়ান এক ব্যক্তির হস্তক্ষেপে হামলা থামে। আগের সংঘর্ষের ঘটনার পর নতুন করে অবিশ্বাস তৈরি হলো উভয়পক্ষের মাঝে।

এর মধ্যেই ১৫৮৭ সালের ১৮ আগস্ট এলিনর ডেয়ার এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। নাম রাখা হয় ভার্জিনিয়া ডেয়ার। ইংরেজ বাবা-মায়ের ঘরে উত্তর আমেরিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম শিশু হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেয় সে।

কিন্তু শিশুটির ভবিষ্যৎ কী হয়েছিল, সেটিই পরে রোয়ানোকে রহস্যের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

সাহায্য আনতে গিয়ে তিন বছরের বিচ্ছেদ

খাবার ও সরঞ্জাম নিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের উদ্বেগ বাড়ছিল। শীতও এগিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তারা জন হোয়াইটকে ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়ে সাহায্য আনার অনুরোধ জানায়।

হোয়াইট যেতে চাননি। তাঁর নিজের পরিবার রোয়ানোকেতে ছিল। তারপরও সবার অনুরোধে তিনি ২৭ আগস্ট ইংল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর দ্বীপে থেকে যায় ১১৭ জন।

Roanoke lost colony
Image source: Science History Images / Alamy Stock Photo

হোয়াইটের পরিকল্পনা ছিল দ্রুত সাহায্য নিয়ে ফিরে আসা। কিন্তু ইউরোপের রাজনীতি তাদের সবার ভাগ্য বদলে দেয়।

ইংল্যান্ড ও স্পেনের যুদ্ধ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ১৫৮৮ সালে স্প্যানিশ আর্মাডার সম্ভাব্য আক্রমণ ঠেকাতে ইংল্যান্ডের নৌসম্পদ যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়ে। হোয়াইটের রোয়ানোকে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ১৫৯০ সালে একটি প্রাইভেটিয়ার বহরে জায়গা পান তিনি। ততদিনে প্রায় তিন বছর কেটে গেছে।

১৮ আগস্ট তিনি দ্বীপে পৌঁছান, কাকতালীয়ভাবে সেই দিনটি ছিল তাঁর নাতনি ভার্জিনিয়া ডেয়ারের তৃতীয় জন্মদিন। কিন্তু জন্মদিন উদযাপনের মতো কাউকে সেখানে পাওয়া গেল না!

রহস্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ: CROATOAN

রোয়ানোকে রহস্য নিয়ে পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে অসংখ্য নাটকীয় কাহিনি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- “CROATOAN” শব্দটি হোয়াইটের কাছে কোনো দুর্বোধ্য রহস্যময় সংকেত ছিল না। তিনি জানতেন ক্রোয়াটোয়ান কী।

ক্রোয়াটোয়ান ছিল বর্তমান হ্যাটেরাস দ্বীপের একটি অঞ্চল এবং সেখানে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নাম। ম্যানটিও ছিলেন এই জনগোষ্ঠীরই বাসিন্দা, এবং ইংরেজদের পরিচিত ও সহযোগী।

Image source: Universal History Archive/Universal Images Group via Getty Images

আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, হোয়াইট ও বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে আগে থেকেই ঠিক হয়েছিল, তাঁর অনুপস্থিতিতে তারা অন্য কোথাও চলে গেলে সেই জায়গার নাম লিখে যাবে। বিপদের মুখে বাধ্য হয়ে চলে গেলে চিহ্নটির সঙ্গে একটি ক্রসও খোদাই করার কথা ছিল।

১৫৯০ সালে হোয়াইট “CROATOAN” লেখাটি পেলেন, কিন্তু সেই বিপদের চিহ্ন পেলেন না। তাঁর নিজের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, তিনি তখন মনে করেছিলেন যে বসতি স্থাপনকারীরা ক্রোয়াটোয়ানে চলে গেছে। আরেকটি বিষয়ও চোখে পড়েছিল। বাড়িগুলো ঝড় বা আক্রমণে ধ্বংস হয়ে যায়নি, বরং সেগুলো খুলে ফেলা হয়েছিল!

হোয়াইট তাই দ্রুত ক্রোয়াটোয়ানের দিকে যেতে চাইলেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া ও জাহাজের সমস্যায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

সবাই কি ক্রোয়াটোয়ানে চলে গিয়েছিল?

এই তত্ত্বের পক্ষে গত কয়েক দশকে কিছু আকর্ষণীয় প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

হ্যাটেরাস দ্বীপের কেপ ক্রিক এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে স্থানীয় ক্রোয়াটোয়ান সামগ্রীর সঙ্গে ষোড়শ শতকের ইউরোপীয় বস্তু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় লোহা, অস্ত্রের অংশ, কাচের পুঁতি এবং অন্যান্য সামগ্রী রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টলের প্রত্নতত্ত্ববিদ মার্ক হর্টনের নেতৃত্বে পরিচালিত অনুসন্ধান এই ধারণাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে যে ইংরেজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেখানে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।

গবেষক স্কট ডসন আরও দাবি করেছেন, রোয়ানোকে বসতি স্থাপনকারীরা ক্রোয়াটোয়ান জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। তাঁর মতে, তারা আসলে ‘হারিয়ে’ যায়নি।

কিন্তু বিষয়টা এতটা সহজও না।

হ্যাটেরাসে ইংরেজদের ব্যবহৃত বস্তু পাওয়া গেলেই সেগুলো যে ১৫৮৭ সালের নিখোঁজ বসতি স্থাপনকারীদের ছিল, তা নিশ্চিত হয় না। বাণিজ্য বা আগের ইংরেজ অভিযানের মাধ্যমেও এসব জিনিস স্থানীয়দের হাতে পৌঁছাতে পারে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো কবরস্থান, বসতি, মানবদেহাবশেষ বা অন্য প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যেগুলোকে নিঃসন্দেহে রোয়ানোকে কলোনির ১১৭ জনের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসও বর্তমানে এই অবস্থানই বজায় রেখেছে।

তাহলে ৫০ মাইল ভেতরের দিকে কী পাওয়া গেছে?

আরেকটি সম্ভাবনা সামনে আসে জন হোয়াইটের একটি মানচিত্র থেকে।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত তাঁর ‘La Virginea Pars’ মানচিত্রের ওপর লাগানো একটি কাগজের প্যাচ ২০১২ সালে বিশেষ প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করা হয়। নিচে লাল ও নীল রঙে আঁকা দুর্গসদৃশ একটি চিহ্ন দেখা যায়। জায়গাটি রোয়ানোকে থেকে পশ্চিমে, বর্তমান বার্টি কাউন্টির কাছাকাছি।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াইট বসতি স্থাপনকারীদের প্রয়োজনে প্রায় ৫০ মাইল ভেতরের দিকে সরে যাওয়ার কথা বলেছিলেন।

ফার্স্ট কলোনি ফাউন্ডেশন পরে ওই অঞ্চলের ‘সাইট এক্স’ ও আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়ে ষোড়শ শতকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ইংরেজ মৃৎপাত্রসহ বেশ কিছু বস্তু খুঁজে পায়। সংগঠনটির গবেষকেরা মনে করেন, সেখানে রোয়ানোকে উপনিবেশের অন্তত কিছু মানুষ গিয়ে থাকতে পারে। তবে সাইটটি পুরো ১১৭ জনের বসতি হওয়ার মতো বড় ছিল না।

Excavations at Site X in 2014 helped yield possible proof that a group of Roanoke colonists moved inland.
২০১৪ সালে সাইট এক্সে পরিচালিত খননকাজ থেকে এমন কিছু সম্ভাব্য প্রমাণ পাওয়া যায়, যা ইঙ্গিত করে রোয়ানোকে উপনিবেশবাসীদের একটি দল দ্বীপ ছেড়ে স্থলভাগের ভেতরের দিকে চলে গিয়েছিল; Image source: First Colony Foundation

এর ফলে একটি ভিন্ন সম্ভাবনা শক্তিশালী হয়: রোয়ানোকে ছাড়ার পর সবাই হয়তো একই জায়গায় যায়নি।

কেউ ক্রোয়াটোয়ানদের কাছে দক্ষিণে যেতে পারে, কেউ আলবেমার্ল সাউন্ড ধরে পশ্চিমে যেতে পারে। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে একটি বড় দলকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করা অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তও ছিল না।

তবে এটাও এখনো সম্ভাবনা, প্রমাণিত ইতিহাস না।

দুর্ভিক্ষ, হত্যা কিংবা স্প্যানিশ আক্রমণ?

১৫৮৭ থেকে প্রায় তিন বছর ওই অঞ্চলে গুরুতর খরার প্রমাণ রয়েছে। খাদ্যের সংকট ইংরেজ এবং স্থানীয় উভয় জনগোষ্ঠীকেই বিপদে ফেলতে পারত। ফলে দুর্ভিক্ষ অবশ্যই বসতি স্থাপনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু রোয়ানোকে বসতিতে বিপুল সংখ্যক কবর বা মৃতদেহের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্প্যানিশ আক্রমণের তত্ত্বও দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। স্পেন ইংরেজ উপনিবেশ সম্পর্কে জানত এবং ইংরেজদের উত্তর আমেরিকায় ঘাঁটি গড়া তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল। কিন্তু রোয়ানোকে ধ্বংসে স্প্যানিশ বাহিনীর প্রত্যক্ষ ভূমিকার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। ১৫৯০ সালে হোয়াইটও আক্রমণে বিধ্বস্ত কোনো বসতি দেখতে পাননি।

আরেকটি পুরনো ধারণা হলো, বসতি স্থাপনকারীরা চেসাপিক অঞ্চলে গিয়ে পরবর্তীতে স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়। জেমসটাউন যুগের কিছু বিবরণ এ ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত দিলেও এখন পর্যন্ত চেসাপিক এলাকায় রোয়ানোকে কলোনির উপস্থিতি নিশ্চিত করার মতো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ফলে একটি মাত্র বিপর্যয় দিয়ে ১১৭ জনের ভাগ্য ব্যাখ্যা করার চেয়ে ছড়িয়ে পড়া, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তা নেওয়া, কিছু মানুষের মৃত্যু এবং কিছু মানুষের আত্মীকরণ, এমন একাধিক ঘটনার সমন্বয় এখন বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়।

চার শতাব্দীর রহস্য, নাকি ভুলভাবে বলা ইতিহাস?

রোয়ানোকে নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় কথাটি হলো, “একটি পুরো উপনিবেশ কোনো চিহ্ন না রেখে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।”

কিন্তু বাস্তবে তারা চিহ্ন রেখে গিয়েছিল। চিহ্নটির নাম ছিল “CROATOAN”।

সমস্যা হলো, সেই সংকেত অনুসরণ করে জন হোয়াইট কখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। এরপর এত দীর্ঘ সময় কেটে গেছে যে উপকূল বদলেছে, বসতি বিলীন হয়েছে, প্রত্নতাত্ত্বিক স্তর নষ্ট হয়েছে এবং ইংরেজ ও আদিবাসীদের যোগাযোগের ইতিহাসের ওপর তৈরি হয়েছে কিংবদন্তির বহু স্তর।

হয়তো ভবিষ্যতের কোনো খনন, ডিএনএ গবেষণা কিংবা নতুন কোনো ঐতিহাসিক নথি শেষ পর্যন্ত গল্পটির আরও কিছু অংশ পরিষ্কার করবে। আবার এমনও হতে পারে, রোয়ানোকে কখনো এমন একটি উত্তর দেবে না যেখানে একটি ঘটনাই সবকিছু ব্যাখ্যা করে! বরং এর উত্তর ছড়িয়ে থাকতে পারে কয়েকটি জায়গায়, কয়েকটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে এবং কয়েকটি ভিন্ন পরিণতিতে।

ফিচার ইমেজ: Illustration by North Wind Picture Archives/Alamy

তথ্যসূত্র

 

This post was viewed: 14

আরো পড়ুন