রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে তুলে নিয়ে মারধরের শিকার হওয়া পানি ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান খান দিপু (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার ৩ দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে পরিবার।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বিষয়টি রাতে নিশ্চিত করেন খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
ওসি জানান, গত ২৯ জুলাই খিলগাঁও রেলগেটের ছাপড়া মসজিদ এলাকার বাসার সামনে থেকে কয়েকজন দিপুকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার রাতে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
তিনি আরও বলেন, “খিলগাঁও রেলগেট ছাপড়া মসজিদ এলাকায় গত ২৯ জুলাই বাসার সামনে থেকে দিপুকে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন। পরে মারধর করে রেল লাইনে ফেলে যায়। এরপর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তি করা হয় দিপুকে। পরে শুক্রবার রাতে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর পরিবার তার মরদেহ গোপনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ থানায় খবর দেয়। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি।”
ঘটনার পেছনে পূর্ব বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে ওসি বলেন, “গত ঈদে আসামিদের সঙ্গে দিপুর দ্বন্দ্ব হয়েছিল। যদিও ভুক্তভোগীর স্বজনদের দাবি সেই দ্বন্দ্ব মিট হয়েছিল। কিন্তু একই কারণে দিপুকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে ফেলে যায়। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছে।”
নিহতের বাবা সামসুউদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দিপু বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তার কাছে ২০ টাকা চান। তিনি বলেন, “‘আব্বা ২০ টাকা দাও পান কয়টা আনবো’ ওর পকেটে হাজার হাজার টাকা থাকলেও ও বাইরে যাওয়ার সময় আমার কাছ থেকে ২০-৫০ টাকা তার নিতেই হতো। আমার ছেলে যে চলে গেল আর বাসায় ফিরে এলো না।”
তিনি আরও বলেন, খিলগাঁও রেলগেট এলাকায় অজ্ঞাত ১০ থেকে ১২ জন দুর্বৃত্ত দিপুকে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রেলগেট এলাকায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের ভাষ্য, খিলগাঁওয়ের ব্লক-সি এলাকার ৭২১/১/এ নম্বর বাসায় তাদের বসবাস। সামসুউদ্দিনের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে দিপু পানির ব্যবসা করতেন।