Skip to main content

Ridge Bangla

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত কমছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের অস্ত্রভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায় মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে একই ধরনের বড় আকারের হামলা মোকাবিলা বা বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি হলে বিদেশে মোতায়েন বাহিনী ও সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে যেতে পারে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরের মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০টি। দীর্ঘ সংঘাতের পর সেই সংখ্যা কমে ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে থাড ইন্টারসেপ্টরের সংখ্যা ছিল ৪৫২টি। বর্তমানে তা কমে ২৭৮টিরও নিচে নেমে এসেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সতর্ক করে জানিয়েছে, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র পুনরায় উৎপাদন করে আগের পর্যায়ের মজুত ফিরিয়ে আনতে অন্তত ৩ বছর সময় লাগতে পারে। ফলে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বা অন্য কোথাও বড় ধরনের সামরিক সংকট দেখা দিলে বিদেশে অবস্থানরত সেনা সদস্য, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে এসব ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

এই ঘাটতি মোকাবিলায় পেন্টাগন ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিল থেকে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। এই অর্থ দিয়ে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহ করা হবে। লক্ষ্য হলো দ্রুত কমে যাওয়া মজুত পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের সক্ষমতা বজায় রাখা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তুলনামূলক কম ব্যয়ের অস্ত্র সংগ্রহের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। প্রাথমিক ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রস্তাবে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদের চাহিদা জানানো হয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকের প্রতিটির মূল্য ৬ লাখ ডলার বা তার কম। ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই প্রভাব ফেলেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক প্রস্তুতির ওপরও উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে একাধিক ফ্রন্টে একযোগে সংকট মোকাবিলা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন