সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম, আর সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিয়েতে। চীনের নাগরিক ওয়্যাং সুলিন (৩০) ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের কলেজছাত্রী নাজমিন আক্তার লিজার (২০) বিয়ে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় কনের বাবার ভাড়া বাসায় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এর আগে ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। পরে ২১ জুলাই পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক, সম্মান, দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা নাজিম উদ্দিনের বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি মোহনগঞ্জে বসবাস করছেন।
অন্যদিকে, চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা ওয়্যাং সুলিন পেশায় একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী। তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করেন।
পরিবারের দাবি, কয়েক মাস আগে ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চীনা নাগরিকের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইতিবাচক ও নেতিবাচক, দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যায়। বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানেও বিদেশি জামাইকে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভিড় করেন।
কনের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে চীনা নাগরিক ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং তার নাম রাখা হয়েছে নুর উদ্দিন। বিভিন্ন মতভেদ থাকলেও শুক্রবারের বিবাহোত্তর অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ের আনন্দ উদ্যাপন করা হয়।
লিজার বাবা নাজিম উদ্দিন জানান, ছেলের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তারা চীনা দূতাবাসে গিয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করেছেন। সবকিছু নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওয়্যাং সুলিন চীনে ফিরে গিয়ে ভিসাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করবেন। এরপর তিনি লিজাকে চীনে নিয়ে যাবেন।