ফরিদপুরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এর আগেও একই ব্যক্তি তার সৎ মাকে হত্যা করেছিলেন।
নিহত সামেলা বেগম (৬০) ওই এলাকার মৃত শেখ আকবরের স্ত্রী। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাহিম শেখ মানসিকভাবে অসুস্থ ও মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ হতো। কয়েক দিন আগেও তিনি মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে না থাকায় রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র দিয়ে মায়ের ওপর হামলা চালান। এতে সামেলা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৬ সালেও রাহিম শেখ তার সৎ মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি প্রায় ৬ বছর কারাগারে ছিলেন। পরে তার বাবা তাকে জামিনে মুক্ত করেন। এরপর তিনি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। পুলিশ জানিয়েছে, তার থাকার ঘর থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ে কাকুলী আক্তার বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি মায়ের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে কাজে চলে যান। তার ভাষ্য, মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় রাহিম শেখকে আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় রাহিম সেই ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে মাকে হত্যার খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, আপন ছেলে তার মাকে কোনো কিছু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।