রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন, রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার, সহসাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির, নাজমুস সাকিব, মেহেদী সজীব, ফাহিম রেজা, আরিফুল ইসলাম, আহসান উল্লা ফারহান, সিফাত আবু সালেহ ও নুরুল ইসলাম শহীদ। তারা সবাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র শিবিরের নেতা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১ নম্বর আসামি সালাউদ্দীন আম্মার লোহার রড দিয়ে ভুক্তভোগী মাহিনের মাথা ও কপালে পরপর আঘাত করেন, এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। পরে অন্য আসামিরাও তার চোখ, বুক ও পিঠে আঘাত করেন। একপর্যায়ে মাহিন অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন আসামিরা তাকে আবার গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী এমএস আসাদ উজ জামান জানান, ঘটনার পরদিন তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেনি। পরে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে এসে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালত পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, বিচারক আশিকুর রহমান অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়াশোনা করছিলেন সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান (মাহিন)। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ১৯ থেকে ২০ জন দুষ্কৃতকারী লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে বেধড়ক মারধর করে।