Skip to main content

Ridge Bangla

শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা প্রায় এক কোটি টাকার পণ্য জব্দ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করা ১০১ কার্টন পণ্য জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) শুল্ক ফাঁকি এবং আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য খালাসের চেষ্টা নস্যাৎ করতে কাস্টমস গোয়েন্দার সদর দপ্তর ও এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তারা যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানটি বিমানবন্দরের ডেলিভারি গেট নম্বর ৮–সংলগ্ন ইয়ার্ডে পরিচালিত হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ‘সরদার গ্লোবাল ট্রেড’ নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একটি এয়ার ওয়ে বিলের মাধ্যমে পণ্যচালানটি দেশে আনে। আমদানি নথিতে মোটর পার্টস, প্রসাধনী, মিনি কম্পিউটার, ট্যাবলেট, প্রজেক্টর ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

পণ্য খালাসের জন্য আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘ফাহিম ৫ স্টার লিমিটেড’ কাস্টমসের অনলাইন ব্যবস্থায় বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। তবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দারা আগেই চালানটি নজরদারিতে রাখেন এবং খালাসের সময় কায়িক পরীক্ষা শুরু করেন।

পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘোষিত নতুন পণ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ও নিয়ন্ত্রিত সামগ্রী আনা হয়েছে। জব্দ করা ১০১টি কার্টন থেকে ৪৫০টি ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ৯৬৩ কেজির বেশি ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ, ৯৬টি ৬ টেরাবাইট ধারণক্ষমতার হার্ডড্রাইভ, ২৯১ কেজির বেশি প্রসাধনী এবং ৯৬টি ব্যবহৃত মিনি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় শুল্ক-কর পরিশোধ করেও আইন অনুযায়ী খালাসের সুযোগ নেই।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক পণ্য আমদানি আইনত নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলো নতুন পণ্য হিসেবে বাজারজাত করে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারিত করার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্য পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

তারা আরও জানান, আমদানি শর্ত না মেনে আনা প্রসাধনী জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া উদ্ধার হওয়া গাড়ির যন্ত্রাংশগুলো কেবল খুচরা যন্ত্রাংশ, নাকি আলাদা চালানে আনা কোনো গাড়ির অংশ, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের দায় নির্ধারণ করে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন