ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। লোকসভায় প্রশ্নফাঁসবিরোধী নতুন আইন নিয়ে আলোচনার সময় তিনি আরএসএসকে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শত্রু হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী নন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছে আরএসএস।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে নতুন আইন নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় এসব মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী। আরএসএসের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে তার মন্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বক্তব্যের শুরুতে রাহুল বলেন, সমাজে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে। একদল সব সময় শিখতে, নতুন কিছু জানতে এবং সত্য অনুসন্ধান করতে চায়। আরেক দল মনে করে, তারা সবকিছু জানে। দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষদের বোঝাতে তিনি একটি ‘অসংসদীয় শব্দ’ ব্যবহার করেন। এতে সরকারপক্ষের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান।
সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু রাহুলকে ওই শব্দ ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সদস্যরাও প্রতিবাদে যোগ দেন। রাহুল বলেন, তিনি সংসদের কোনো সদস্যকে উদ্দেশ্য করে শব্দটি ব্যবহার করেননি। তবে সরকারপক্ষের বিক্ষোভ থামেনি।
পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও রাহুলকে শব্দটি ব্যবহার না করার অনুরোধ জানান। এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে শব্দটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ শিক্ষামন্ত্রীর হাতে নেই। তার ভাষায়, ‘শিক্ষামন্ত্রী নন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালায় আরএসএস। তারা শিক্ষার্থীদের সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান করতে দিচ্ছে না। বরং নিজেদের কল্পিত ইতিহাস পড়তে বাধ্য করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু একটি মুখ। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শত্রু হলো আরএসএস।’
গত ২০ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশের হামলার প্রসঙ্গও তোলেন রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রাহুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়ে এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে এসে কথা বলার সাহস নেই।’
এ বক্তব্যের পর আবারও আপত্তি জানান কিরেন রিজিজু। তিনি রাহুলের কাছে অভিযোগের প্রমাণ চান। একই সঙ্গে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।
রিজিজু বলেন, ‘অমিত শাহ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, এর প্রমাণ কোথায়? বিরোধীদলীয় নেতা এভাবে ভিত্তিহীন অভিযোগ করতে পারেন না। তার বক্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত।’
জবাবে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এত বড় মাত্রায় বলপ্রয়োগের অনুমতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারেন না।
এরপর সরকারপক্ষের সদস্যরা আবারও তীব্র প্রতিবাদ জানান। এ সময় স্পিকার ওম বিড়লা রাহুলকে স্মরণ করিয়ে দেন, কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করা সংসদের নিয়মের পরিপন্থি।