জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অতিদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ১২টি জেলার ১০ হাজারের বেশি নারীকে জীবিকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘স্বপ্ন-২’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।
টেকসই অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্য নিয়ে সুইডেন ও মারিকো সরকারের আর্থিক সহায়তা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩২টি উপজেলার ২৮৩টি ইউনিয়ন পরিষদের ১০ হাজার ১৮৮টি অতিদরিদ্র পরিবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা এবং স্বামী অক্ষম এমন নারীপ্রধান পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় ‘স্বপ্ন-২’ প্রকল্পের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও জীবিকা উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান বলেন, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার এবং মানসম্মত জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত অংশীদারত্ব এবং কার্যকর দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলের মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব, যার প্রমাণ এই প্রকল্পের সাফল্য।
স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব ও ‘স্বপ্ন-২’ জাতীয় প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য কার্যকর সরকারি নীতি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি পরিকল্পনায় এই প্রকল্প থেকে পাওয়া তথ্য ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক। এছাড়া প্রকল্পের মূল্যায়নের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও উপদেষ্টা তাসমিয়াহ তাবাসসুম রহমান।