ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের শ্যানডং প্রদেশের ২টি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক এবং একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পের আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিয়ে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে সালিশি কার্যক্রম চলছে। এর ফলে গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পে অর্থায়নকারী ২টি চীনা ব্যাংকের ঋণের কিস্তি ছাড় বন্ধ রয়েছে। তবে এই সময়েও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পের নির্মাণকাজ চালিয়ে গেছে।
এ পরিস্থিতিতে ২৯ জুলাই সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের কার্যালয়ে শ্যানডং প্রদেশের ২টি ব্যাংক ও একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে প্রকল্পের বিকল্প অর্থায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সেতু সচিব বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আংশিক অংশ চালুর পর প্রত্যাশার তুলনায় বেশি যানবাহন চলাচল করছে। তার আশা, পুরো এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে বিনিয়োগ করা অর্থ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) আলতাফ হোসেন সেখ, প্রধান প্রকৌশলী এ এইচ এম এস আকতার এবং চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই দিন রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান যৌথ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব প্ল্যাটফর্মের অষ্টম সভায় ভোলা-লক্ষ্মীপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প উপস্থাপন করেন সেতু সচিব। সভায় জাপানি প্রতিনিধিদল প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে এবং দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর গুরুত্বের স্বীকৃতি দেয়।
সভায় বাংলাদেশ ও জাপান অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।