বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরব। কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় শুরু হওয়া এই প্রকল্পের ৪৩০ মিটার পর্যন্ত নির্মাণ শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের নতুন রেকর্ড গড়বে।
বুধবার (২৯ জুলাই) গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকল্পটির বিনিয়োগকারী প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালাল জানিয়েছেন, টাওয়ারটির উচ্চতা ১,০০০ মিটারেরও বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ৪০ শতাংশের বেশি নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রিন্স আল-ওয়ালিদ প্রকল্পে কর্মরতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর মাধ্যমে কয়েক বছর ধরে স্থগিত থাকা এই নির্মাণকাজ পুনরায় পূর্ণ গতিতে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
আল-ওয়ালিদ বলেন, “আল্লাহর প্রশংসা, কাজ চলছে এবং আমরা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার নির্মাণ সম্পন্ন করব।”
২০১৩ সালে জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হলেও আর্থিক সংকট এবং ঠিকাদার-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ২০১৮ সালে প্রকল্পটি স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২০২৫ সালে আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাওয়ারটির চূড়ান্ত উচ্চতা হবে ১ কিলোমিটারেরও বেশি। এরই মধ্যে ৪৩০ মিটারের বেশি অংশ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শেষ হলে এটি বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে যাবে। একই সঙ্গে এটি হবে বিশ্বের প্রথম ১ কিলোমিটারের বেশি উচ্চতার ভবন।
জেদ্দা টাওয়ারে আবাসিক ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল হোটেল, অফিস স্পেস এবং একটি বিশাল পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থাকবে। জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রস্থলে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যবসা ও বিলাসবহুল পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারের ৫ কোটি ৭০ লাখ বর্গফুট আয়তনের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি। এর পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে প্রিন্স আল-ওয়ালিদের কিংডম হোল্ডিং কোম্পানি।
জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি এ প্রকল্পে অ্যাড্রিয়ান স্মিথ অ্যান্ড গর্ডন গিল আর্কিটেকচার, থর্নটন টোমাসেটি, ল্যাঙ্গান ইন্টারন্যাশনাল এবং সৌদি বিনলাদিন গ্রুপের সঙ্গে কাজ করছে।
গালফ নিউজ জানিয়েছে, জেদ্দা টাওয়ারের উচ্চতা ১,০০০ মিটার অতিক্রম করবে। ফলে এটি ৮২৮ মিটার উচ্চতার বুর্জ খলিফাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের স্বীকৃতি পাবে। ২০২৮ সালের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।