কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল তেহরান। তবে পরবর্তী কূটনৈতিক যোগাযোগের ফলে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে বলে ইরানি ও পশ্চিমা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালায় ইউক্রেন। ওই হামলায় একজন বেসামরিক নাবিক নিহত হন।
এর জবাবে ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় একটি বন্দরে স্বল্প বিস্ফোরক বহনকারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এ হামলা মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, ইরান পরিকল্পনা অনুযায়ী হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কারণ, রাশিয়াকে ইউক্রেনে হামলার ক্ষেত্রে সহায়তা করার অভিযোগ আগে থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে রয়েছে।
গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, পণ্যবাহী জাহাজে ইউক্রেনের হামলা জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থি এবং এই হামলার জন্য কিয়েভকে জবাব দেওয়া হবে।
পরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সাইবিহার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আরাঘচি। ওই আলাপচারিতায় আন্দ্রি সাইবিহা জানান, জাহাজে হামলাটি ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং ইউক্রেন নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে চায় না।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি জানান, তারাও উত্তেজনা বৃদ্ধি চান না। তবে বেসামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন। সেখানে উত্তেজনা কীভাবে প্রশমিত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।