Skip to main content

Ridge Bangla

বাব এল-মান্দেব অবরোধ নিয়ে হুথিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় চীন

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে হুথি গোষ্ঠীর আরোপিত অবরোধ থেকে চীনা জাহাজকে অব্যাহতি দেওয়ার লক্ষ্যে সরাসরি সংলাপ শুরু করেছে বেইজিং। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২০ জুলাই বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা করে হুথি গোষ্ঠী। চীনের লক্ষ্য, এই অবরোধের আওতার বাইরে যেন তাদের ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারে।

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাব এল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এটি সুয়েজ খালে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্যও এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলীয় তেলক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১২ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।

২০ জুলাই অবরোধ ঘোষণার পর প্রথম দেশ হিসেবে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংলাপে বসেছে চীন।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর গণমাধ্যম বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে কোনো পক্ষই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলার, এলএসইজি এবং মেরিনট্র্যাফিক জানিয়েছে, অবরোধ ঘোষণার পর গত ৯ দিনে অন্তত ৪টি সৌদি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার বাব এল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করে চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

চীনের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করার আগে চীনা কর্মকর্তারা হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ছাড়পত্র নিয়েছেন।

ইরানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুথিদের সঙ্গে বেইজিংয়ের আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত তেহরানকে জানানো হচ্ছে।

তবে চীনা জাহাজকে ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও অন্য বিদেশি জাহাজের ক্ষেত্রে একই সুবিধা দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে সংগঠনটির হাইকমান্ড জানায়, শুধু বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেই নয়, এর কাছাকাছি সৌদি আরবের ইয়ানাবু বন্দরে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ পণ্য ওঠানো বা নামানোর কাজ করলেও সেটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

উল্লেখ্য, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুথি গোষ্ঠী ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আব্দ আল হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। এরপর ২০১৫ সাল থেকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বাধীন জোট।

বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি জোট-সমর্থিত প্রেসিডেন্ট কাউন্সিল সরকার।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন