যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার দুই শিশু সিয়াম ও রিফাত। চার বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তারা হারিয়েছে নিরাপদ আশ্রয় ও অভিভাবকের স্নেহ। শেষ পর্যন্ত আশ্রয় ও সহযোগিতার আশায় তারা সরাসরি থানার দ্বারস্থ হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সরাইল থানায় গিয়ে দুই শিশু পুলিশের কাছে তাদের জন্য একটি নিরাপদ ব্যবস্থার আবেদন জানায়।
জানা গেছে, উপজেলার বড্ডাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিয়াম ও রিফাতের বাবা বাছির মিয়া পেশায় সিএনজি অটোরিকশাচালক ছিলেন। প্রায় চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই দুই শিশুর জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মা আসমা আক্তার মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। ফলে সন্তানদের নিয়মিত দেখভাল ও লালন-পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবার মৃত্যুর পর কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে দুই ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কখনও প্রতিবেশীদের সহায়তায়, আবার কখনও মানুষের দয়ার ওপর নির্ভর করে তাদের জীবন চলছে। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়েছে। এমনকি অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে রাত কাটানোর ঘটনাও ঘটেছে।
এ অবস্থায় নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থানীয় কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুর সহায়তায় তারা সরাইল থানায় যায়। সেখানে পুলিশের কাছে তারা বলে, ‘আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিন। আমরা এভাবে আর থাকতে চাই না।’
থানায় দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কারুন বিল্লাহ শিশু দুটির বক্তব্য শুনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সিয়াম ও রিফাত কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মায়ের মানসিক অসুস্থতার কারণে তাদের লালন-পালন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
স্থানীয়দের মতে, দুই শিশু ভয় না পেয়ে নিজেদের সমস্যার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে পুলিশও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।