কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় তিন প্রবাসী সহোদরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা।
রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কালিশংকর পুর উত্তরপাড়া এলাকার মৃত রহমান খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী প্রবাসীদের স্ত্রীরা জানান, রাত ৩টার দিকে ৫ থেকে ৬ জনের একটি ডাকাত দল প্রবাসী স্বপন খানের আধাপাকা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে তাঁর স্ত্রী তহুরা খাতুনকে জিম্মি করে। তাঁর চিৎকার শুনে প্রবাসী লিটন খান, রিপন খান ও শিপন খানের স্ত্রীরা ঘর থেকে বের হলে ডাকাতরা তাদের এবং তাদের সন্তানদেরও একটি ঘরে আটকে রাখে। পরে নারীদের হাত ও চোখ বেঁধে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।
এরপর ডাকাতরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ভোর হওয়ার আগে জিম্মি করে রাখা ঘরটির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে তারা চলে যায়। পরে শিশুদের সহায়তায় বাঁধন খুলে পরিবারের সদস্যরা মুক্ত হন।
মুক্ত হওয়ার পর তারা প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরে প্রতিবেশীদের মোবাইল ফোন থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খোকসা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
ভুক্তভোগী তহুরা খাতুন জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও তারা দরজায় তালা দিয়ে নিজ নিজ ঘরে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার পর তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ডাকাতরা ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে পাট কাটার বড় কাঁচি, ছুরি এবং দুইজনের হাতে রাইফেলসদৃশ অস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, ডাকাতরা তিনটি কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
প্রবাসী রিপন খানের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, দেবরের স্ত্রীর চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডাকাতরা তাঁকে জানায়, তারা ডাকাতি করতে এসেছে। এরপর তাঁকেও একই ঘরে নিয়ে হাত, চোখ ও মুখ বেঁধে ফেলে। পরে বাড়ির অন্য সদস্যদেরও জিম্মি করে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।