গাজায় সামরিক অভিযানে অংশ নিলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি রয়েছে- এমন আশঙ্কায় বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যান করা তিন ইসরায়েলি ভাই-বোনকে সুরক্ষা দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনিক পর্যালোচনা ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের মতে, ইসরায়েলে ফিরে গেলে তারা কারাদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন এবং তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে সেই শাস্তি নির্যাতনের শামিল হতে পারে।
রোববার (২৬ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষা ভিসার আবেদন করা একটি পরিবারের তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হলে ওই তিন ভাই-বোনকে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিতে হতে পারে। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কায় তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের এই অবস্থানকে ‘সত্যিকারের রাজনৈতিক বিশ্বাস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ট্রাইব্যুনালের মতে, এই শাস্তির ঝুঁকি তাদের জন্য গুরুতর ক্ষতির বাস্তব আশঙ্কা তৈরি করে। যেহেতু এই ঝুঁকি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই আসতে পারে, তাই নিজ দেশে তারা কার্যকর রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাবেন না।
ট্রাইব্যুনাল আরও উল্লেখ করেছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের একটি প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার অভিযোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা তাদের দায়িত্ব নয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মামলায় চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও গ্যালান্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অধিকার রাখেন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারটি প্রায় এক দশক আগে বাবার কর্মভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় যায়। ২০২৪ সালে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হলে তারা সুরক্ষা ভিসার আবেদন করেন। প্রথমে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও পরে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন তারা।
ট্রাইব্যুনাল মনে করেছে, তিন ভাই-বোনকে ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হলে নির্যাতনের ‘সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক আশঙ্কা’ রয়েছে। তাই পুরো পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।