Skip to main content

Ridge Bangla

খাইবার শেকান নিয়ে নতুন আলোচনা, যে কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরানের তৈরি খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র আবারও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন হামলায় এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এবং এর সক্ষমতা নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণের পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ ক্ষেপণাস্ত্রটির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা প্রকাশের পর এটি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরান একাধিকবার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব অভিযানে দেশটির কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে খাইবার শেকান বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি সলিড ফুয়েলচালিত। ফলে আগেভাগেই প্রস্তুত অবস্থায় রাখা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এতে উৎক্ষেপণের আগে শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও দাবি করা হয়, লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাওয়ার পথে খাইবার শেকান গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এ কারণে এটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও এটি প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের খরচ অনেক বেশি। ফলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি প্রতিপক্ষের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইরানের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন সংঘাত থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছেন। এর মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

খাইবার শেকান ২০২২ সালে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সমরভাণ্ডারে যুক্ত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ওয়ারহেডে একাধিক ছোট বিস্ফোরক বহনের সক্ষমতা রয়েছে। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সেগুলো ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানতে পারে। ইসরায়েলের সঙ্গে দুই দফা সংঘাতেও এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক খাইবার যুদ্ধের স্মরণে এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম খাইবার শেকান রাখা হয়েছে। ৬২৮ সালে আরবের খাইবার মরূদ্যান মুসলিম বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এ নামকরণ করা হয়।

ইরান একটি খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কত ব্যয় হয়, সে তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেসব প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সেগুলোর তুলনায় এর উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন