সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়। এ বিষয়ে আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া বক্তব্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, গত ৮ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
তার দাবি, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ১৭টি নজরদারি ও অভিযান পরিচালনাকারী চালকবিহীন উড়োজাহাজ, যার মধ্যে ৮টি ছিল নতুন। এছাড়া একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান এবং ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ধ্বংস করা হয়েছে।
মোহেব্বি আরও দাবি করেন, এসব বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে মাটিতে থাকা অবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তিনি কোন কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
তিনি বলেন, ইরানের হামলায় ৯টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৫টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, ৬টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ৩টি আকাশ ও নৌ নজরদারি রাডার, ৮টি গোয়েন্দা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার এবং ৫টি ইলেকট্রনিক অবস্থান নির্ধারণ ব্যবস্থা রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২টি ছিল দীর্ঘপাল্লার।
তার দাবি অনুযায়ী, আরও ৫টি দীর্ঘপাল্লার রাডার, ২টি আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, একটি কৌশলগত রাডার কমপ্লেক্স, ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র হ্যাঙ্গার, ১৭টি অস্ত্রভাণ্ডার, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, ৩টি সরবরাহ কেন্দ্র, ৬টি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, ৪টি হাইমার্স রকেট উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম, একটি জ্বালানি জেটি, একটি চালকবিহীন ভূপৃষ্ঠীয় নৌযান সংরক্ষণাগার, একটি গোয়েন্দা তথ্যকেন্দ্র, ৪টি যুদ্ধবিমান হ্যাঙ্গার, ৪টি হেলিকপ্টার এবং ৬টি ক্ষেপণাস্ত্র গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর ইরানের হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে তিনি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।