Skip to main content

Ridge Bangla

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর অভিজিৎ দিপকে, ‘এটা কেবল শুরু, সামনে আরও দীর্ঘ পথ’

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ককরোচ জনতা পার্টির বেশ কয়েকটি দাবি সরকার মেনে নেওয়ার পর নতুন বার্তা দিয়েছেন দলটির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আন্দোলনের এখানেই শেষ নয়, বরং এটি কেবল শুরু। সামনে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের পর আপাতত কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পেয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই আন্দোলন নেতা। দীর্ঘদিনের চাপের পর তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।

ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, ‘‘কী করতে হবে কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত কী ঘটবে, এসব চিন্তা না করেই আমি ঘুমাতে যেতে পারছি এবং নিজের শোবার ঘরে ঘুম থেকে উঠতে পারছি।’’

তিনি জানান, এখন আর আগের মতো উৎকণ্ঠা কাজ করছে না। টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘‘সত্যিই অত্যন্ত কঠিন’’ বলে উল্লেখ করেন।

নিজের অনুসারীদের উদ্দেশে দিপকে বলেন, আন্দোলনের এই অর্জনকে শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ‘‘এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির এখনও অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।’’

প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তী প্রায় ৭০ দিনের মধ্যে সেই উদ্যোগ ভারতের জেন জি বা নতুন প্রজন্মকে ঘিরে একটি বৃহৎ আন্দোলনে পরিণত হয়।

অল্প সময়ের মধ্যেই হাজার হাজার সমর্থক, যারা নিজেদের ‘ককরোচ’ পরিচয়ে পরিচিত করেন, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান নেন। যন্তর মন্তর এলাকায় তাদের ‘ইনকিলাব’ স্লোগানে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চাকরিপ্রার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দায়ী করে আন্দোলনকারীরা তার পদত্যাগ দাবি করেন। সরকারের বিলম্বিত অবস্থানের মধ্যে প্রতিদিনই আন্দোলনে নতুন নতুন সমর্থক যোগ দিতে থাকেন।

অবশেষে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। একই সঙ্গে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, এই সাফল্যের পেছনের পথ মোটেও সহজ ছিল না। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যারা আন্দোলনের পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। টাইফয়েডে আক্রান্ত এবং জ্বরে ভোগার কারণে আগের দিন যন্তর মন্তরে উপস্থিত হয়ে সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে না পারায় দুঃখও প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘যারা দীর্ঘ ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অপেক্ষা করছিলেন, আমি আপনাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আর আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা এই দেশের জন্য যা করেছেন, তা আমি সত্যিই মন থেকে অনেক অনেক সম্মান করি।’’

সমালোচকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান দিপকে। তার ভাষায়, গঠনমূলক সমালোচনা ও বিভিন্ন প্রশ্ন তাকে নিজের ভুলগুলো বুঝতে এবং সংশোধন করতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় সেই কারণেই আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলও পেয়েছি।’’

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন