Skip to main content

Ridge Bangla

ফেসবুক পোস্টে পদ ছাড়ার ঘোষণা জামায়াত নেতার, তুললেন উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পটুয়াখালীর মহিপুরে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে দলীয় পদ এবং সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান মহিপুর সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী।

ফেসবুক পোস্টটি প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতারা দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত জমিজমা ও পাওনা অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণেই তিনি দল থেকে দূরে সরে গেছেন। তাঁদের ভাষ্য, তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী বলেন, রাজনীতিতে যুক্ত থাকার সময় তিনি ন্যায় ও নৈতিকতার পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে।

তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিজের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং মানুষের কর্ম ও চরিত্রই তার প্রকৃত পরিচয়।

রাজনৈতিক জীবনে নিজের কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন খলিলুর রহমান।

অন্যদিকে, তাঁর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা।

মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি বলেন, খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী গত বছরের ৫ আগস্টের পর দলে যোগ দেন এবং ২ থেকে ৩ মাস সক্রিয় ছিলেন। পরে তিনি দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

তিনি দাবি করেন, খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা নিয়ে একটি বিরোধ ছিল, যা স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়নি। এছাড়া এক ব্যক্তির কাছে তাঁর প্রায় ৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল। সংগঠন সেই অর্থ আদায়ে কোনো ভূমিকা না নেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দল থেকে দূরে সরে গেছেন বলে তাঁদের ধারণা।

তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি আরও জানান, দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী খলিলুর রহমান এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

This post was viewed: 8

আরো পড়ুন