রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও বর্তমানে কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
জেরুজালেম পোস্টের হাতে আসা গত ২২ জুলাইয়ের একটি চিঠির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স কংগ্রেস সদস্য ওয়েসলি বেলের চিঠির জবাবে জানায়, তুরস্কের এফ-৩৫ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দেশটির অবস্থান ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট’ এবং ২০২০ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী অপরিবর্তিত রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী তুরস্ককে এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর সংগ্রহ করা হবে না, এমন লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল তুরস্কের এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফেরার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আঙ্কারা এখনো এসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এছাড়া এস-৪০০ ইস্যুর যেকোনো সমাধান স্বচ্ছ, আইনসম্মত এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
চিঠিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ন্যাটো জোটের ঐক্য আরও জোরদারের পাশাপাশি এস-৪০০ ইস্যুর সমাধানে আঙ্কারার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পারস্পরিক বাণিজ্য ও যৌথ নিরাপত্তার ভিত্তিতে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারা আগ্রহী। তবে মার্কিন জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ালে আঙ্কারাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে তুরস্কের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসাও করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তি আলোচনা এবং গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে দেশটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নিতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
এ ছাড়া সিরিয়াসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আইএসবিরোধী অভিযানে তুরস্কের অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইতিবাচক মূল্যায়নের পাশাপাশি তুরস্কে হামাস-সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশটিতে এখনো হামাসের কিছু আর্থিক কার্যক্রম এবং অননুমোদিত হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তৎপরতা রয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সন্ত্রাসে অর্থায়নের এসব চ্যানেল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।