Skip to main content

Ridge Bangla

বাবাকে দাফন করে ফিরেই পেলেন মেয়ের মৃত্যুসংবাদ, একই কবরস্থানে দাদা-নাতনির দাফন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবার জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন শেষে বাড়ি ফেরার পথেই মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পান তুজাম উদ্দিন। পরে একই দিন একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দাদা ও নাতনিকে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মারা যান। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়াড় কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।

কিন্তু দাফন শেষে বাড়ি ফেরার সময় পরিবারটি আরেকটি শোকাবহ খবর পায়। ফুলবাস আলীর নাতনি, ২০ বছর বয়সী মুন্নি খাতুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

স্বজনদের ভাষ্য, বিয়ের আগে পর্যন্ত দাদার দেখাশোনা করতেন মুন্নি। শুক্রবার গভীর রাতে দাদার মৃত্যুতে মরদেহের পাশে বসে বিলাপ করতে করতে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান তিনি। পরে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতির সময় তার মৃত্যু হয়।

স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘চাচা ফুলবাস আলীর দাফনের পর বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে কখনো বহন করতে না হয়।’

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন এবং কিছুদিন ধরে টাইফয়েডে ভুগছিলেন। তার দাবি, দাদার মৃত্যুতে শোকের ধাক্কায় মুন্নির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই মানিকদিয়াড় কবরস্থানে মুন্নি খাতুনকে দাফন করা হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, সকালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার নাতনির মৃত্যুর খবর পুরো এলাকাকে আবারও শোকাহত করে তোলে।

This post was viewed: 15

আরো পড়ুন