আগের সরকারের আমলে বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার শিগগিরই কার্যকর উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনের সরকার ছিল ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী। তাদের লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে দেশের জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তাই তাদের আমলে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত অবশ্যই করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা পরিকল্পিতভাবে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আমরা সফল হব।”
তিনি জানান, সড়কের ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ হাজারের বেশি জিও ব্যাগ এবং বড় আকারের টিউব জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এর ফলে আপাতত নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ভূঞাপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি রয়েছে এবং সে লক্ষ্যেই কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা বজায় রাখতে খাল ও নদী খনন কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। তার মতে, নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক থাকলে ভাঙনের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন রোধে স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে।
এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন, ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ. কে. এম. রেজাউল করিম, গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।