Skip to main content

Ridge Bangla

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আজ থেকে কার্যকর

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টারের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল, গ্যাস, সার এবং কিছু খাদ্যপণ্যসহ কয়েকটি পণ্য এ ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে।

১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরও প্রায় সব আমদানির ওপর ন্যূনতম শুল্ক বহাল রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, অতীতে সেকশন ৩০১ আদালতের বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জে টিকে থাকায় নতুন শুল্কের ক্ষেত্রে আইনি ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকবে।

সুপ্রিম কোর্টের ফেব্রুয়ারির রায়ের পর ট্রাম্প ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন শুল্ক কার্যকর হয়। তবে ২৮ জুলাই পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য এ নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোও একই নীতি অনুসরণ করবে। তার মতে, এই পদক্ষেপ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা সংশোধনের মাধ্যমে বিশ্বের শ্রমিকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

এর আগে জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছিলেন, যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং যেখানে সর্বোচ্চ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে নতুন বাধ্যতামূলক শ্রম শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে মোট কার্যকর শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।

এ ছাড়া আরও ৩৮টি দেশের জন্য ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে চীনও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, চীন উইঘুর সংখ্যালঘুদের শ্রমশিবিরে আটক রেখে কাজ করায়। যদিও বেইজিং এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির সময় যে ২০ শতাংশ শুল্কহারে সম্মতি হয়েছিল, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে চীনা পণ্যের ক্ষেত্রে সেই হার পুনর্বহালের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর বেশি শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা নেই। শুক্রবারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে প্রথম মেয়াদে শিল্পপণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাদে চীনা পণ্যের কার্যকর শুল্কহার ১০ শতাংশে নেমে এসেছিল।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন