Skip to main content

Ridge Bangla

এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে আসছে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ দল, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিকের আশা

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত সচল করতে যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা বাংলাদেশে আসছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে রয়েছে। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই টার্মিনালটি চালু করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ হ্রাস পেয়েছে। সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে এলএনজি আমদানি ও পুনর্গ্যাসীকরণের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি পরিচালনা করে সামিট এবং অন্যটি এক্সিলারেট এনার্জি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে। এতে দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে অন্তত ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সেই পরিমাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। পর্যাপ্ত গ্যাসচাপ না থাকায় অনেক স্টেশনে মেশিন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক যানবাহন গ্যাস নিতে পারছে না।

সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য মো. ওয়াহিদ খান বলেন, একটি স্টেশন পরিচালনার জন্য সাধারণত ১৫ পিএসআই গ্যাসচাপ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ পিএসআই পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে অনেক সময় চাপ ২ পিএসআইয়েরও নিচে নেমে গেছে। এতে মেশিন চালু রাখা যাচ্ছে না এবং গ্রাহকদের সেবা দেওয়া ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল দ্রুত সচল করতে কাজ করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অপারেশন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দেশে রয়েছে এবং যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞরা এসে মেরামতকাজে অংশ নেবেন। তাদের সহায়তায় অল্প সময়ের মধ্যেই টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংকট দেশের এলএনজি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনেছে। মাত্র দুটি ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় একটি বন্ধ হয়ে গেলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়। তাই স্থলভাগে নির্মাণাধীন এলএনজি টার্মিনালগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের আয়ুষ্কাল সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর। দীর্ঘমেয়াদে এসব টার্মিনালের মূলধনী ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক কম এবং পরিচালনগত নমনীয়তাও বেশি। তাই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থলভিত্তিক টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু এলএনজির ওপর নির্ভরশীল না থেকে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামো বহুমুখীকরণের উদ্যোগও সমান গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

This post was viewed: 16

আরো পড়ুন