Skip to main content

Ridge Bangla

১২ ঘণ্টা সুয়ারেজ ট্যাংকে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার রাজমিস্ত্রি

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির সুয়ারেজ ট্যাংকে প্রায় ১২ ঘণ্টা বালু ও পানির নিচে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হয়েছেন রাজমিস্ত্রি মো. সোহরাব হোসেন (৪০)। দীর্ঘ সময় নানা চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে ট্যাংকের চারপাশের মাটি কেটে তাকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের কুকুরমারা (শান্তিপুর) এলাকার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের কুকুরমারা গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্র, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, বুধবার সকাল থেকে চারজন শ্রমিককে নিয়ে নতুন একটি বাথরুমের সুয়ারেজ ট্যাংক নির্মাণের কাজ করছিলেন সোহরাব। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ১৪ ফুট গভীরে বসানো রিং স্ল্যাবের ভেতরে পানি জমে গেলে তা সরাতে তিনি নিচে নামেন। এ সময় বালু ও পানির চাপে তার দুই পা আটকে যায়।

প্রথমে সহকর্মীরা বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও পরে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধারচেষ্টা চালানো হলেও সফল না হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেলাবো ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রথমে মই ব্যবহার করে নিচে নেমে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরে ৯টি রিং স্ল্যাব সরিয়েও তাকে বের করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাত ১২টার পর একটি এক্সক্যাভেটর এনে ট্যাংকের চারপাশের মাটি কেটে ফেলা হলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারের পর সোহরাব হোসেনকে দ্রুত বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দিলেও পরে তার অনুরোধে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

উদ্ধারের পর সোহরাব হোসেন বলেন, “বালু-পানিতে ১২ ঘণ্টা আটকে থাকার সময়টা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে বেঁচে ফিরেছি। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় যুবকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

বেলাবো ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মনজুরুল কাদির জানান, সর্বশেষ রিং স্ল্যাবের নিচে বালু ও পানির চাপে সোহরাবের পা শক্তভাবে আটকে ছিল। সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে চারপাশের মাটি কেটে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, “এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে আগে কখনো পড়িনি। সৌভাগ্যক্রমে তাকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম আমান উল্লাহ বলেন, ঘটনাস্থলটি নদীর পাড়ঘেঁষা হওয়ায় নিচে শুধু বালু ছিল। পানি ওঠার পর নিচে নামতেই বালু সরে গিয়ে রিং স্ল্যাবের নিচে সোহরাবের পা আটকে যায়। প্রায় ১২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

This post was viewed: 17

আরো পড়ুন