Ridge Bangla

গাইবান্ধায় খাল পুনঃখনন শেষে ৪১ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার নাকাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ করে ব্যয় সাশ্রয়ের ফলে অবশিষ্ট ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিনাথপুর ইউনিয়নের ৪ দশমিক ৯২০ কিলোমিটার দীর্ঘ নাকাই খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেয়। চলতি বছরের ১২ মে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ২৫২ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময় কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই তুলনামূলক কম ব্যয়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় তিন মাসের খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন এবং অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের পর ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৮২৮ টাকা অবশিষ্ট থাকে। সরকারি বিধি অনুযায়ী সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির একাধিক সদস্য জানান, সদ্য বিদায়ী ইউএনও শেখ জাবের আহমেদ প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। দীর্ঘদিন দখল ও ভরাটের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত ছিল। এতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকটে ভুগতেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্থানীয়দের মতে, খালটি পুনঃখননের ফলে অন্তত ২০টির বেশি বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা কমেছে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক আশরাফুল বলেন, খালটি খননের ফলে বর্ষায় দীর্ঘদিন পানি জমে থাকবে না। দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও কমবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপচয় করা হয়নি। ব্যয় শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘সরকারি টাকা জনগণের আমানত। এই টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় কাজ শেষে অবশিষ্ট টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দ করা প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।

This post was viewed: 7

আরো পড়ুন