Ridge Bangla

নিকারাগুয়ায় আর নির্বাচন হবে না, ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ওর্তেগার

নিকারাগুয়ায় ভবিষ্যতে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেনিয়েল ওর্তেগা। বিরোধী দলগুলোর ক্ষমতায় আসার সুযোগ বন্ধ করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ৮০ বছর বয়সী এই নেতা। পাশাপাশি বিরোধীদের ঠেকাতে নতুন আইন প্রণয়নের কথাও বলেছেন তিনি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, রোববার ১৯৭৯ সালের সান্দিনিস্ত বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন ওর্তেগা। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে আনাস্তাসিও সোমোসার স্বৈরশাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

হাজারো সরকারি কর্মীর উপস্থিতিতে দেওয়া ভাষণে ওর্তেগা বলেন, ‘এখানে আর কোনো নির্বাচন হবে না, যাতে তারা (বিরোধী দলগুলো) সরকার দখল বা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করতে পারে।’

বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, জাতীয় পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এমন আইন করা হবে, যা ‘অভ্যুত্থানকারীদের’ এবং ‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারীদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

আগামী বছর নিকারাগুয়ায় জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পুরোপুরি বাতিল করা হবে, নাকি শুধু বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে- এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি প্রেসিডেন্ট। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং প্রধান বিরোধী প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের কারাগারে পাঠানো হয়।

লাতিন আমেরিকা–বিষয়ক বিশ্লেষক তিজিয়ানো ব্রেদার মতে, ডেনিয়েল ওর্তেগা ও তাঁর স্ত্রী এবং ‘কো-প্রেসিডেন্ট’ রোসারিও মুরিয়ো দেশটিকে কার্যত একটি পারিবারিক স্বৈরতন্ত্রে পরিণত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কারই বহিঃপ্রকাশ।

গত বছর নিকারাগুয়ায় সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ৫ বছর থেকে ৬ বছর করা হয়। একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা রোসারিও মুরিয়োকে ‘কো-প্রেসিডেন্ট’ পদে উন্নীত করা হয়।

২০১৮ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতার অভিযোগও রয়েছে ওর্তেগা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই দমন-পীড়নে ৩৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া শত শত মানুষ আহত এবং হাজারো মানুষ কারাবন্দী হন। একই সময়ে প্রায় ১০ লাখ নিকারাগুয়ান দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে নিকারাগুয়ায় প্রায় ৫০ জন রাজনৈতিক বন্দী রয়েছেন। এছাড়া ৫৪৬ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ হাজার ৬০০টির বেশি বেসরকারি সংস্থা, ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫৮টি গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে।

This post was viewed: 7

আরো পড়ুন