দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষিপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে সমন্বিত উদ্যোগ ও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া সার্ক কৃষি কেন্দ্র আয়োজিত তিন দিনের ভার্চুয়াল কর্মশালা ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খল’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তারা এ আহ্বান জানান। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মশালায় সার্ক অঞ্চলের নীতিনির্ধারক, খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, গবেষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে খাদ্যনিরাপত্তার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তাঁর মতে, অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সহনশীল কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্যশস্য উৎপাদন ও মূল্য শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
নেপালের খাদ্যপ্রযুক্তি ও গুণগত নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সিনিয়র ফুড রিসার্চ অফিসার মোহন কৃষ্ণ মহারজন বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্বল নিয়ন্ত্রক প্রয়োগ এবং সীমিত পরীক্ষাগার সক্ষমতা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি খাদ্যনিরাপত্তা মানের সমন্বয়, সাফটা কার্যকর বাস্তবায়ন, আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা এবং খাদ্যনিরাপত্তা সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার। তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব ও জ্ঞান বিনিময় আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শ্রীলঙ্কার কৃষি বিভাগের মহাপরিচালক ড. ডব্লিউ এ আর টি বিক্রমারাচ্চি বলেন, খামার থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তার আস্থা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক মানদণ্ড গ্রহণ, টেকসই কৃষি চর্চার প্রসার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
২৩ জুলাই পর্যন্ত চলা এই কর্মশালায় খামার পর্যায়ে মানদণ্ড বাস্তবায়ন, জলবায়ু-সহনশীল ফসল উৎপাদন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, জৈব কৃষি, কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা, ফসল সংগ্রহোত্তর খাদ্যনিরাপত্তা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা নীতি ও বিধিমালা সংস্কার নিয়ে কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।