Ridge Bangla

ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার অপরাধসংক্রান্ত কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক রকিবুল হাসান খান রকিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধান শাহীনুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন।

গত রোববার জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশে তাঁর সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস, ২০০৩-এর ৪৫(৫) ধারা অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসনিক নির্দেশিকা, ২০০৩-এর ২১(ক) ধারা অনুযায়ী তিনি জীবিকা ভাতা পাবেন। আদেশটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, রকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ, অনলাইন বেটিংসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম। অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হবে।

গত সপ্তাহে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল রকিবুল হাসানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তবে অভিযানের আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন এবং এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র জানায়, রকিবুলের বিভিন্ন ব্যাংকে একাধিক হিসাব রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হিসাবের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অবৈধ অনলাইন বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে প্রকাশিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট ৩০ হাজার ১৯৯টি সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ বেশি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আর্থিক অপরাধ দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই যদি এ ধরনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

This post was viewed: 6

আরো পড়ুন