Ridge Bangla

কাপ্তাই হ্রদে নিখোঁজ বিএনপি নেতার মরদেহ মিলল তিন দিন পর

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ভাসমান অবস্থায় বিএনপি নেতা মো. মাসুদ (৫০) এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর পৌনে ১টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার গর্জনটিলা এলাকার হ্রদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাসুদ কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লাশ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ জুলাই) বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া এলাকা থেকে নিজস্ব ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কাপ্তাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেন মাসুদ। গর্জনটিলা এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে তার নৌকাটি ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজের পর নৌবাহিনীর ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা যৌথভাবে টানা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। অবশেষে সোমবার দুপুরে নিখোঁজ হওয়ার স্থানসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে কাপ্তাই পেপার মিলসের চিপার হাউসে অস্থায়ী নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ও আশপাশের এলাকায় মৌসুমি ব্যবসা করতেন।

নিহতের বড় মেয়ে মাইশা আক্তার তমা জানান, শনিবার সকালে ফারুয়া বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর দুপুর গড়িয়ে গেলেও তার বাবা ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, গর্জনটিলা এলাকায় তার নৌকাটি ভাসমান অবস্থায় রয়েছে, তবে তিনি সেখানে নেই।

খবর পেয়ে কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা, কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন এবং কাপ্তাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পরে বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম ঘাঁটির লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শাহ আব্দুল্লাহ নাসেরের নেতৃত্বে নৌবাহিনীর ৮ সদস্যের একটি ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান আহমেদ, কাপ্তাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউসুফ এবং সাধারণ সম্পাদক কামাল হাকিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত নৌকা থেকে পড়ে মাসুদ কাপ্তাই হ্রদের গভীর পানিতে তলিয়ে যান।

কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও পুলিশ কয়েক দিন যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চলন্ত নৌকা থেকে পানিতে পড়ে তিনি তলিয়ে যান। পরে নিখোঁজ হওয়ার স্থানসংলগ্ন এলাকা থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন