Ridge Bangla

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর গণদাফন, শত শত মানুষের অংশগ্রহণ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের মাজদাল সেলম গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর কয়েক ডজন যোদ্ধার গণদাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এ দাফন অনুষ্ঠানে শত শত মানুষ অংশ নেন।

ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, গত ২ মার্চ ইসরায়েলে তাদের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের স্মরণে এ দাফনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সংঘাতে তাদের মোট কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, সে সংখ্যা প্রকাশ করেনি সংগঠনটি।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর চলমান লড়াইয়ে সাময়িক বিরতির সুযোগে কয়েক দফায় নিহতদের দাফনের ব্যবস্থা করে হিজবুল্লাহ।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মাজদাল সেলম গ্রামে মোট ৪৪ জনকে দাফন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৯ জন হিজবুল্লাহর যোদ্ধা, ৪ জন বেসামরিক নাগরিক এবং একজন স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন। হিজবুল্লাহর দাবি, বাকি সবাই ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, কফিনবাহী ট্রাকগুলো কবরস্থানের দিকে যাওয়ার সময় শোকাহত নারীদের হাতে নিহত যোদ্ধাদের ছবি এবং ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি দেখা যায়। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনি নিহত হন।

সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় লেবাননের অনেক বাসিন্দা নিজ নিজ এলাকায় স্বজনদের দাফন করতে পারেননি। শিয়া মুসলিমদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে মৃত ব্যক্তিকে তার কাঙ্ক্ষিত স্থানে দাফন করা সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে অন্যত্র দাফনের সুযোগ রয়েছে।

সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ নিহতদের নাম উল্লেখ করে মাজদাল সেলমের শহীদদের জানাজায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিবৃতিতে ১২৯ জন নিহতের নাম প্রকাশ করা হলেও মাজদাল সেলম পৌরসভা সেই তালিকাকে “ভুল ও ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুক্তরাষ্ট্র সফরে রওনা হয়েছেন। তার এ সফরের মধ্যেই হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হলো। চলতি সপ্তাহে শেষ হওয়া ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার পর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের অবসান ঘটাতে গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়। গত ২৬ জুন ওয়াশিংটনে উভয় পক্ষ একটি রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ লেবানন থেকে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে দুটি পরীক্ষামূলক এলাকায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা।

তবে চুক্তি কার্যকরের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও শুরু থেকেই এ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট আলোচনাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে হিজবুল্লাহ।

This post was viewed: 9

আরো পড়ুন