পদ্মা নদী থেকে মাছ ধরার সময় জালে উঠে আসা একটি ভারী ধাতব বস্তু গুপ্তধন ভেবে বাড়িতে নিয়ে যান এক জেলে। পরে ছেলের সন্দেহের ভিত্তিতে জাতীয় জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করা হয়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার রাওথা-পিরোজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীতে মই জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন জেলে সাইদার রহমান। জাল তোলার সময় মাছের বদলে একটি ভারী ধাতব বস্তু উঠে আসে। সেটিকে মূল্যবান কোনো বস্তু বা গুপ্তধন মনে করে তিনি বাড়িতে নিয়ে যান।
বাড়িতে এনে বস্তুটি পরিষ্কার করার সময় তার ছেলে সাব্বির রহমান সেটির ছবি তুলে ইন্টারনেটে খোঁজ করেন। অনুসন্ধানের পর এটি বোমা বা বিস্ফোরক হতে পারে বলে সন্দেহ হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়।
খবর পেয়ে চারঘাট মডেল থানা পুলিশের সদস্য এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মীরগঞ্জ বিওপির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুটি নিজেদের হেফাজতে নেন। ঝুঁকি কমাতে সেটি পানিভর্তি একটি বালতিতে রেখে নিরাপদ এলাকায় সংরক্ষণ করা হয়। পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এসে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করে।
জেলে সাইদার রহমান বলেন, “প্রথমে এটিকে নদীতে পাওয়া কোনো গুপ্তধন মনে করেছিলাম। পরে ছেলের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দেই। আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছি।”
চারঘাট মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, উদ্ধার করা বস্তুটি নিরাপদে সংরক্ষণের পর বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়। তারা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করেছে। এটি ঠিক কী ধরনের বোমা, তা বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।