কুমিল্লায় এক শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে বিল্লাল হোসেন।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, ২০২৪ সালের বুড়িচং থানার ৫ নম্বর মামলা এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা নং-২৭১/২৬-এর বিচার শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (২) ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত বিল্লাল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় বিল্লাল হোসেন আদালতের হাজতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের জারি করা মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের চা-দোকানি আক্কাস মিয়ার ৯ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন বুড়িচং থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
এর ৪ দিন পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে ইয়াসিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন, ৬ অক্টোবর বিল্লাল হোসেন ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিখোঁজ হওয়ার আগে প্রতিবেশীরা ইয়াসিনকে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে একটি দোকানে নাস্তা করতে দেখেছিলেন। এছাড়া ইয়াসিন তার মা খোদেজা বেগমকে জানিয়েছিল, সে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে নিমসার বাজারে যাবে। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।