নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর পূর্বপাড়া এলাকায় দুই দফা অভিযান চালিয়ে ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সদস্য আব্দুছ সালামকে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) হাফিজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার আব্দুছ সালাম আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে নামে। উপপরিদর্শক মিনহাজুল হক আকিল, মোশাররফ হোসেন ও শেখ তৌফিক আমীনের নেতৃত্বে সদর উপজেলার মদনপুর পূর্বপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে আব্দুছ সালামের গোয়ালঘর থেকে ৭টি, রফিকুল ইসলামের গোয়ালঘর থেকে ৩টি এবং লুত মিয়ার গোয়ালঘর থেকে আরও ৩টি গরু উদ্ধার করা হয়। প্রথম দফায় মোট ১৩টি চোরাই গরু উদ্ধারের পাশাপাশি আব্দুছ সালামকে আটক করে পুলিশ।
পরে আব্দুছ সালামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় আজিজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ২টি এবং আনিক মিয়ার গোয়ালঘর থেকে আরও ২টি গরু উদ্ধার করা হয়। দুই দফার অভিযানে মোট ১৭টি চোরাই গরু উদ্ধার হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা করা হয়। পরে আব্দুছ সালামকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জেলা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর তথ্য সারাদেশে প্রচার করা হয়। পরে গৌরীপুর থানা এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নেত্রকোনা মডেল থানায় এসে ৭টি গরু নিজেদের বলে শনাক্ত করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মালিকানা যাচাইয়ের পর প্রকৃত মালিকদের কাছে গরুগুলো হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন সরকার বলেন, গরু চুরির ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। মালিকানা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।