ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাঙ্গারেডি জেলায় ধর্ষণ মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ ৬ জনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের মধ্যে ওই ধর্ষণ মামলার অভিযোগকারী ১৭ বছর বয়সী কিশোরী, তার মা ও নানিও রয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাতে পৃথক ২টি স্থানে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত ৩৫ বছর বয়সী রাজকুমার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রাজকুমার প্রথমে শাবাদ এলাকায় নিজের বাড়িতে যান। সেখানে স্ত্রী পার্বতী সারিতা এবং ৪ বছর ও ১৮ মাস বয়সী দুই ছেলেকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ।
এরপর নিজের বাড়ি থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রামে যান রাজকুমার। সেখানে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার অভিযোগকারী ১৭ বছর বয়সী কিশোরী, তার মা ও নানিকে হত্যা করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর রাজকুমার নিজের বাবাকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। এরপর তিনি পালিয়ে যান।
ফিউচার সিটির পুলিশ কমিশনার তরুণ জোশি বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত কিশোরী গত ১৬ মে রাজকুমারের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছুদিন কারাগারে থাকার পর প্রায় ১ সপ্তাহ থেকে ১০ দিন আগে জামিনে মুক্তি পান রাজকুমার।
পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২০১৮ সালে রাজকুমার ও পার্বতী প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের ৩ সন্তান ছিল। প্রথম কন্যাসন্তান জন্মের কিছুদিন পর মারা যায়।
স্বজনদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে রাজকুমার ও পার্বতীর মধ্যে বড় ধরনের কোনো পারিবারিক বিরোধের খবর তাদের জানা ছিল না।