বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে মালদ্বীপের বিভিন্ন কারাগারে থাকা বাংলাদেশি বন্দিরা মানবিক বিবেচনায় দেশে ফিরে অবশিষ্ট সাজা ভোগের সুযোগ পাবেন।
শুক্রবার মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হাইকমিশন জানিয়েছে, চুক্তিটি দ্রুত কার্যকরের লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে শিগগিরই চুক্তি সই ও কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের আইনি ও মানবিক সহযোগিতায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও সামাজিক পুনর্বাসনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে মালদ্বীপে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দেশটির মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করেছে।
কারাগার পরিদর্শনের সময় সেখানে আটক ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মাফুশি কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত। বাকি ১০ জনের বিচার চলছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্যেক বন্দির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। এ সময় তাদের চিকিৎসাসেবা, খাবার, পোশাক, আবাসন এবং কারাগারের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।
পরে মালদ্বীপের কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা। সেখানে বাংলাদেশি বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরে তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, “বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্বের অংশ। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।”
তিনি বলেন, “বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বন্দিরা নিজ দেশে থেকে সাজা ভোগ পারবেন, যা প্রবাসে আটক নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”