Ridge Bangla

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা এপস্টেইন ভুক্তভোগী আত্মগোপনে

জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে থাকা এক নারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য প্রতিশোধের আশঙ্কায় ওই নারী এখন সবার আড়ালে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নথিতে ওই নারী ‘জেন ডো ফোর’ নামে পরিচিত। তাঁর পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে ‘সবার নজরের বাইরে’ আত্মগোপনে আছেন।

২০১৯ সালে এফবিআই এজেন্টদের দেওয়া ৪টি সাক্ষাৎকারে জেন ডো ফোর অভিযোগ করেন, ১৯৮০-এর দশকে নিউইয়র্কের অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইন তাঁকে নির্যাতন করেছিলেন। পরে তাঁর বয়স ১৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে থাকাকালে ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এপস্টেইন–সংক্রান্ত বৃহত্তর নথিপত্রের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এসব সাক্ষাৎকারের নথি প্রকাশ করে। নথি প্রকাশের পর হোয়াইট হাউস জেন ডো ফোরের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে। একই সঙ্গে বলা হয়, এসব অভিযোগের পক্ষে ‘বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।’

এপস্টেইনের অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের মধ্যে অল্প কয়েকজন সরাসরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের একজন জেন ডো ফোর। তাঁর মামলার নথি কীভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, তা এখন ভুক্তভোগী, তাঁদের সমর্থক এবং ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের সমালোচকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

প্রয়াত এপস্টেইন ভুক্তভোগী ভার্জিনিয়া জিউফ্রের ভাই স্কাই রবার্টস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘বারবার সামনে এসে কথা বলার দায়িত্ব জেন ডো ফোরের হওয়া উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘তিনি ইতিমধ্যেই এফবিআইকে তাঁর সাক্ষ্য দিয়েছেন। সেই প্রমাণ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া বিচার বিভাগের দায়িত্ব হওয়া উচিত।’

মার্কিন অ্যাটর্নি টড ব্ল্যাঞ্চের ওপর আদালতে নথিগুলোর সম্পূর্ণ, অর্থাৎ সম্পাদনাবিহীন সংস্করণ জমা দেওয়ার চাপ বাড়ছে। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনের এক ফেডারেল বিচারক তাঁকে নির্দেশ দেন, বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে যেসব নথি প্রকাশ করেছে, সেগুলোর সম্পাদনাবিহীন সংস্করণ আদালতে জমা দিতে হবে। তা সম্ভব না হলে কেন দেওয়া যাচ্ছে না, সে ব্যাখ্যা ২ জুলাইয়ের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।

পাবলিক ইনটিগ্রিটি প্রজেক্টের আইনজীবী ব্রেনডান ব্যালু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘তারা সত্যিই, সত্যিই এসব নথি প্রকাশ হোক, তা চায় না।’ অন্যদিকে এপস্টেইনের অন্য অভিযোগকারী ভুক্তভোগী ও তাঁদের সমর্থকেরা জানতে চাইছেন, প্রায় ২৫ লাখ নথিকে কেন পুনরাবৃত্ত অথবা আইনগতভাবে সুরক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেন ডো ফোরের মামলার নথি পরিচালনা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে বিচার বিভাগ এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল–সংক্রান্ত নথি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়। বরখাস্ত হওয়া অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি হাউস ওভারসাইট কমিটিকে জানান, ওই আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন টড ব্ল্যাঞ্চ। তিনি ৫০০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা দলের নেতৃত্ব দেন।

আইনটি পাসের পর বিচার বিভাগ ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশ করে। এতে বহু ভুক্তভোগীর নাম প্রকাশ হয়ে যায়। তাঁদের আপত্তিকর ও আনসেন্সরড ব্যক্তিগত ছবিও প্রকাশ্যে আসে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত বিশাল নথিপত্রের মধ্যে জেন ডো ফোরের একটি আনুষ্ঠানিক এফবিআই সাক্ষাৎকার প্রতিবেদনও ছিল। সেখানে তাঁর মামলার একটি সংখ্যাভিত্তিক শনাক্তকারী নম্বর যুক্ত ছিল।

২০১৯ সালের জুলাইয়ে জেফ্রি এপস্টেইন গ্রেপ্তারের পর জেন ডো ফোর এফবিআইয়ের এপস্টেইন হটলাইনে ফোন করেছিলেন। এফবিআই তাঁর অভিযোগকে আরও তদন্তযোগ্য বলে বিবেচনা করেছিল। তবে তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের আগস্টে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে জেন ডো ফোরের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর এফবিআই তাঁর অভিযোগ নিয়ে আর কোনো তদন্ত করেছে- এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

পরে জেন ডো ফোর এফবিআইকে জানান, তাঁর মনে হচ্ছে কেউ তাঁকে অনুসরণ করছে। এরপর তিনি এফবিআইয়ের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

This post was viewed: 5

আরো পড়ুন