Ridge Bangla

ভেনেজুয়েলায় জ্বালানির অভাবে থমকে উদ্ধারকাজ, বাড়ছে ক্ষোভ

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির সংকটে অচল হয়ে পড়েছে ভারী যন্ত্রপাতি। দুর্যোগের প্রায় এক সপ্তাহ পরও বহু স্থানে উদ্ধারকারীরা খালি হাত, কোদাল ও শাবল দিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরায় সরকারি খননযন্ত্র জ্বালানির অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অথচ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুতের দেশ ভেনেজুয়াতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সরকারের সমালোচনা বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক কারমেন বিয়াত্রিস ফার্নান্দেজের মতে, এই সংকট রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার দীর্ঘদিনের অবক্ষয়ের প্রতিফলন। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অন্য খাতে ব্যয় হওয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে ৪ সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বৈজ্ঞানিক, দণ্ড ও অপরাধ তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, অভিযুক্তদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। তবে লা গুয়াইরার বাস্তব চিত্র এখনো ভয়াবহ। শহরজুড়ে ধসে পড়া ভবনের স্তূপ, বাতাসে পচনের গন্ধ, আর নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে অসংখ্য পরিবার দিন-রাত ধ্বংসস্তূপের পাশে অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্যাম্পা থেকে আসা প্রকৌশলী হাসেল মেনদোজা ধসে পড়া একটি ৯ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপে তাঁর মা, বোন, ভগ্নিপতি ও ভাগনেকে খুঁজছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় ড্রিল, সেন্সর ও কাটার যন্ত্র না থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।

সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আশঙ্কা করছে, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা আরও কয়েক হাজার হতে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘ ১০ হাজার মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

এর মধ্যেও উদ্ধারকারীরা আশা ছাড়ছেন না। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কয়েক দিন পরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।

দুই কন্যাকে হারানো স্থানীয় বাসিন্দা ডেইভিস রামোস ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “কাঁদলে একটি পাথরও সরবে না। এখন আমার দরকার শক্তি আর ইচ্ছাশক্তি। আমরা শুধু চাই, তাদের কাছে পৌঁছাতে এবং সম্মানের সঙ্গে শেষ বিদায় দিতে।”

This post was viewed: 3

আরো পড়ুন