ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তীব্র গরমের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ব্যানারে একত্র হওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণরা। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যন্তরমন্তরে চলা এই কর্মসূচিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানানো হচ্ছে।
প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উপেক্ষা করে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও আন্দোলনকারী যন্তরমন্তরে অবস্থান করছেন। কঠোর নিরাপত্তা ও পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যেও সেখানে নিয়মিত স্লোগান, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে।
ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রচারণা থেকে যাত্রা শুরু করা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এখন ভারতের তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জবাবদিহির দাবিতে অন্যতম আলোচিত আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
মেডিকেলে ভর্তির নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। পরে পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও তারা আন্দোলন থেকে সরে আসেননি।
শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্বচ্ছ পরীক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
ভারতের প্রধান বিচারপতির ‘তেলাপোকা’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের নামকরণ হয়। ওই মন্তব্যের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে তোলেন।
আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন লাদাখের পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি। আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণে একটি স্মৃতি দেয়ালও নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাগরিকা ঘোষ, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সিপিআই ও সিপিএমসহ কয়েকটি বিরোধী দল এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ‘নতুন ভাইরাস’ এবং ‘তেলাপোকার মতো দল’ বলে কটাক্ষ করেছে।