Ridge Bangla

ট্রাম্পকে সতর্কবার্তা আরাগচির, ‘তেল আবিবের পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণ না করলে জবাব দেবে ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইরানই তাদের ‘শিক্ষা দেবে’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন আরাগচি। তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত সবার জন্য স্পষ্ট এবং উন্মুক্ত। তাঁর দাবি, ওই সমঝোতার আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরাগচি আরও বলেন, “যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।”

এর আগে গত সোমবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ মন্তব্য করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু’। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরান আলোচনার মাধ্যমে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে না, যদিও চুক্তির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জিত হলে সেটিই ভালো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সমঝোতা স্মারকে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ রাখার কথা থাকলেও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেরুজালেম ওই চুক্তির পক্ষ নয়। তাদের অবস্থান, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিচ্ছে।

এদিকে দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরুর আগে ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। প্রয়োজন হলে এই অবস্থান বাস্তবায়নে শক্তি প্রয়োগের পথেও যেতে প্রস্তুত বলে তাদের দাবি।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনায় অগ্রসর হবে না ইরান। চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় শুরু হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ফি নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি তেহরান।

This post was viewed: 4

আরো পড়ুন