স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এর কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চল।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এটি গত এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। বহু ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।
হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে অবস্থান করছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।
জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পর জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির আবহাওয়া ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল প্রায় ৭.২।
ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
ক্যালিফোর্নিয়ায় শক্তিশালী কম্পন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলেও বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল মেনডোসিনো কাউন্টির রেডউড ভ্যালি এলাকার কাছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে প্রায় ৯০ বছরের মধ্যে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, ভূমিকম্পে কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি কয়েক হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। কিছু বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হলেও বড় ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় একাধিক আফটারশকও রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ভেনেজুয়েলা, জাপান ও ক্যালিফোর্নিয়ার ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি বড় ভূমিকম্প মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। আফটারশকের ঝুঁকি থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো।