হিজাব ছাড়া লাইভ কনসার্টে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন ইরানের তরুণ সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। দেশটির একটি আদালত তাকে এবং প্রযোজনা দলের ৮ সদস্যকে ৭৪টি করে বেত্রাঘাতের আদেশ দিয়েছেন।
গত ১৮ জুন দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে ইরানের আদালতের নথির বরাতে জানানো হয়, কোম প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত এই সাজা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের ওপর ২ বছরের জন্য দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং এ সময়ে যেকোনো ধরনের শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনসার্ট’ আয়োজন এবং তা প্রচারের মাধ্যমে জনসম্মুখে শালীনতা না মানার অভিযোগে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের বিচার বিভাগের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সংস্থা এখনো এ রায় প্রকাশ করেনি। অধিকার সংগঠন এবং আদালতের নথি পর্যালোচনা করা আইনজীবীদের দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া শিল্পীদের গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করার এই প্রবণতা সাংস্কৃতিক ভিন্নমত দমনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদি হিজাব ছাড়া ‘আজ খুনে জাভানানে ভাতান’ শিরোনামের একটি দেশাত্মবোধক গান সরাসরি পরিবেশন করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও প্রকাশের পর কয়েকজন সংগীতশিল্পীর সঙ্গে তাকেও কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক মামলা করে।
এ বিষয়ে ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি পরামর্শ কেন্দ্র দাদবানের মানবাধিকার আইনজীবী মঈন খাজায়েলি বলেন, এই সাজার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের ফৌজদারি আইনে নারীদের গান গাওয়া, গান পরিবেশন করা এবং গান তৈরি বা প্রচার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়নি। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি, বিতরণ বা প্রচারণা হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, শিল্পী, সুশীল সমাজের কর্মী বা অন্য কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে বেত্রাঘাতের শাস্তি কার্যকর করা শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ফৌজদারি আইনের বিষয় নয়। এটি নির্যাতন নিষিদ্ধ করা এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার বিষয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করে। এ কারণে অনেক মানবাধিকার সংস্থা বেত্রাঘাতকে বৈধ শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করে না, বরং একে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ হিসেবে দেখে।
ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি বলেন, প্রকাশ্যে হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার মতো একটি কাজের জন্য পারাস্তু আহমাদিকে বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া নির্মম। ওয়াশিংটনে ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থা নিয়ে যত আলোচনাই হোক, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের নিপীড়নের মূল রূপ অপরিবর্তিত রয়েছে।