হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হলেও বৈশ্বিক তেলের বাজার ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিশ্লেষকদের মতে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে। এমনকি এ প্রক্রিয়া এক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলাকালে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ১১৫ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে বৈশ্বিক বাজার। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত কমেছে তেলের মজুত।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুতও গত ৪ দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম অবস্থানে রয়েছে। বাণিজ্যিক মজুতের ওপরও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার সংকটজনক পরিস্থিতির কাছাকাছি পৌঁছেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি চালু হলেও সরবরাহ ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক করা, উৎপাদন পুনরায় শুরু এবং সরবরাহ চেইন পুনর্গঠনের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি মূলত সমঝোতা ঘিরে তৈরি হওয়া সাময়িক প্রতিক্রিয়া। বাস্তব সরবরাহ সংকট এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তারা মনে করছেন, আগামী সময়ে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ফিরে না এলে তেলের দাম আবারও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। আবার কিছু বিশ্লেষকের মতে, ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়লেও দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে অস্থিরতা থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বৈশ্বিক তেল বাজার এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে আরও সময় প্রয়োজন।